গল্প:ভুতের সাথে প্রেম
লেখক: আশিকুর রহমান
পর্ব:2
অনেকক্ষন চ্যাটিং করার পর আমি বললাম!
"আমার তো ঘুমে ধরেছে। ঘুমাতে দিবেননা?"
"তো আমি মানা করেছি? ঘুমাও তুমি। দরকার পরলে আমার কোলে ঘুমাও। আমি আসব?"
"নাহ নাহ। আসা লাগবে না! তোমার কষ্ট করার দরকার নেই!"
"আরে কষ্ট কিসের ? আমি আসতেছি!"
পাম দিতে গিয়ে বলেও দেখি বিপদে পরলাম।
"প্লিজ এখন আইসো না। আম্মু বুঝতে পারলে আমাকে মারবে।"
"কে মারবে? আমার শ্বাশুড়ি?"
"আজব তো! এতো তাড়াতাড়ি শ্বাশুরি বানায় ফেললা?"
"তো কী করমু?"
" আচ্ছা সত্যি করে বলো তো?"
"কী বলবো?"
"আমি তো ভুত! আমাকে তোমার সত্যিই পছন্দ হয়? ভালোবাসো আমাকে?"
"কেমন বলব? তোমারে তো দেখলেই আমার ভয় লাগে!"
"আচ্ছা। আমরা শুক্রবারে ঘুরতে যাবো। তুমি যাবা?"
"তোমার ঐ বড় বড় চোখ দেখার জন্য?"
"আরেহ! ইয়ার্কি করো না। আমি স্বাভাবিকভাবে আসবো। যেমনটা পৃথিবীতে ছিলাম!"
"আচ্ছা আইসো!"
"বাবু ঘুমাতে যাও!"
"আজব। আমি বাবু হলাম কেমনে? আমার নাম তো আশিক!"
"তুমি আসলে অনেক বোকা। বুঝো না? আমি আদর করে তোমাকে বাবু ডাকি?"
"ওহ। তাই বলো ! আসলে আমি কখনো প্রেমের বিষয়ে জানার চেষ্টা করি নি।"
"আমি সব বুঝায় দিবো। তোমারে এতো ভালোবাসা দিবো!"
"হইছে থাক। আর গভীরে যাওয়া লাগবে না। আমি বুঝে গেছি।"
"বাহ! আমার বাবুটা সব বুঝে!"
"আচ্ছা আল্লাহ হাফেজ!"
"আল্লাহ হাফেজ"
ঐদিন রাতে আমি কিছূ না ভেবেই ঘুমায় পড়লাম। 2/1 দিন কোনো মেসেজ পেলাম না আনিশার। ভাবলাম, ভুতের কাজ কাম নাই। টাইম পাস করার জন্য আমার সাথে আসছে মজা করতে। এসব ভাবতে ভাবতেই আমার ম্যসেন্জারে টুং করে একটা শব্দ এলো। ঢুকে দেখি!
"উড়ন্ত বাতাসের ঝুলন্ত পরী" Sent a Massage. মনে মনে ভাবলাম। বিপদ তাইলে আবার ঘাড়ে চাপছে।
"এইযে মিস্টার? এতোদিন লাইনে আসিনি খোজ নেননি যে!"
"সরি! কিন্তু খোজ কীভাবে নিবো? আমার কাছে তো আপনার নাম্বার নাই।"
"হুম তাও ঠিক। আচ্ছা। কালকে তো শুক্রবার। তুমি তোমার বাসার সামনে দাড়ায় থাকবা। আমি আসবো রিক্সা নিয়ে।"
"আচ্ছা ঠিক আছে। কিন্তূ! চোখ ঢেকে আইসো। আমি কিন্তূ না হলে জ্ঞান হারাবো মরে যাবো!"
"যাহ! দুষ্টু কোথাকার। আমি স্বাভাবিক ভাবেই আসবো।"
"আচ্ছা।"
শুক্রবার জুম-আ এর নামাজ পড়ে অপেক্ষায় আছি ঐ ভুত কী সত্যিই আসবে? ভাবতে ভাবতে বিকাল হয়ে গেলো। মানিব্যাগে হাত দিয়ে দেখি পর্যাপ্ত টাকাও নাই। কী হবে এখন? ভাবতেছি। মেয়েরাতো ফুচকা খেতে ভালোবাসে। খাওয়াতে তো হবেই। অনেক খোজাখুজি করে আমার এক বই থেকে 1 হাজার টাকার একটা নোট পেলাম। যাক বাচা গেলো।
বিকাল বেলা আমি আমার বাসার সামনে দাড়িয়ে আছি। কিন্তু ঐ মেয়ের কোনো দেখা নাই। মনে মনে ভয়ও লাগছে। আমাকে তুলে নিয়ে ঘাড় মটকে দিবে না তো?যেই ডেন্জারেস মেয়ে। আমার তো দেখলেই ভয় করে। এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ পেছন থেকে এক মেয়ের ডাক!
"এইযে মিস্টার?"
পেছনে তাকাতেই দেখি গতকালের ছবিতে দেখা সেই মেয়েটি। তবে, চোখ গুলো ঠিক আছে। আমার ফেবারেট কালারের শাড়ি পড়েছে। তবে, লাল ফেবারেট হলেও শাড়ির কালারটা একটু ডিপ লাল। মানে খয়েরি আর লালের মিশ্রনে যে কালারটা তৈরি হয়। তার হাতে একটি গোলাপ দেখতে পাচ্ছি। তাকে যতটা চিকন ভেবেছিলাম ততটাও নয়। মোটামুটি। তবে চিকন আর মোটা কোনোটার মধ্যেই পরে না। হা হা। তার চোখ দুটো টানা টানা। চুলগুলো খোপা করা।
"হা করে কী দেখছেন? এই যে মিস্টার? রিক্সায় উঠুন!"
"জ্বী উঠছি!"
অতপর, তার পাশে বসে পড়লাম। আমাকে বলল!
"ভয় পাচ্ছেন?"
"আজ্ঞে না! এমনি শরীরটা কেমন যেনো লাগছে। আসলে এর আগে আমি কখনো কোনো মেয়ের পাশে এভাবে রিক্সায় বসিনি তো তাই।"
রিক্সাওয়ালা আমার কথা শুনে হাসতে লাগল।
"আচ্ছা? আপনার মতো এই রিক্সাওয়ালাও কী ভুত?" চুপিচুপি বললাম!
"আরেহ না। বাসার সামনে দিয়ে যাচ্ছিলো। তখন তার দেখা পেলাম।"
"ওহ আচ্ছা।"
মেয়েটি রিক্সা ওয়ালাকে বলল,
"এই মামা চলুন। আজকে সারা শহর ওকে নিয়ে ঘুরবো। আর, বাইপাসের সামনে যাইয়েন!"
"কেন? বাইপাস কেন?" জিজ্ঞাস করলাম আমি।
"ফুচকা খাবো!তাই"
"আমি তো জানতাম ভুতেরা ফুচকা খায় না!"
"দুষ্টু! কী যে বল না ।"
রিক্সা চলেছে । আমি চুপচাপ বসে আছি। হঠাৎ,
"কী হলো?চুপচাপ?"
"ইয়ে মানে। কিছুনা!"
"নেন ধরুন" হাতে থাকা গোলাপটি আমাকে দিলো।
"কী করবো?"
"কী করবো মানে? আমার চুলের খোপায় বেধে দেন।"
"এই মাঝ রাস্তায়? সবাই দেখবে যে!"
"দেখুক। আপনার আমার প্রেম দেখধে না তো কী দেখবে!"
রিক্সাওয়ালা আমার কথা শুনে হাসতেছে । আমি মনে মনে বললাম!, শালা আসল কাহিনি জানলে প্যান্টে হিসূ করে দিবি!
প্রায় আধ ঘন্টা পর! আমরা রিক্সা থেকে নামলাম। বাইপাস এসে গেছি যে। আরিশা রিক্সা ভাড়া মিটিয়ে দিলো। আমি দিতে চেয়েছিলাম।কিন্তূ, ও আমার দিকে এমন বড় বড় চোখ করে তাকালো আমি আর কিছূই বললাম না। কী এক ঝামেলা। শেষমেষ ভুতের খপ্পরে পরলাম।
"এইযে মিস্টার? কী ভাবছেন হুম?"
"না কিছুনা। "
"চলুন আমার সাথে!"
"কো কো কোথায়?"
"কোথায় আবার ! ঘুরতে আসছি ঘুরবো না?"
"হূম। চলুন!"
চলবে

0 Comments