গল্প: ডার্কেসী
পর্ব:৫
লেখক: আশিকুর রহমান
"ধন্যবাদ লিভাই! তোমার এই সাহায্য কখনো ভুলবার নয়"
আমি কিছু না বলে তারাতারি প্রিস্টনের সাথে চলে আসলাম। মজার ব্তাপার হচ্ছে। কেঊ আমাদের ধরতেও পারলো না!
জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহ। আমি আর প্রিস্টন ডি এন এ ম্যচিংয়ে লেগে পড়লাম
ডক্টর লি এর থেকে নেওয়া এন্টি গ্রাভিটি ক্রিস্টালগুলোকে স্কান করতে লাগলাম। কোয়ান্টামের ফাইল থেকে জানা গেলো! ক্রিস্টিয়ালগুলত সঠিক ভাবেই কাজ করছে। অর্থাৎ, মহাকাশের যেকোনো স্থানে আমরা সহজে অবস্থান করতে পারবো।
আর, তার সাথে আমাদের ডাইমেনশনাল ফ্রেজ ভাঙার প্রস্তুতি চলছে। তবে, এটা খুবই কষ্টসাধ্য। কেননা, এক ডাইমেন থেকে আরেক ডাইমেনশনে আসতে হলে আকৃতির পরিবর্তন হয়।!
তাই, আমি আর প্রিস্টন এক বিশেষ ধরনের সুট তৈরি করেছি। যার মাধ্যমে আমরা এক ডাইমেনশন থেকে আরেক ডাইমেনশনে গেলে আকৃতির কোনো পরিবর্তন হবে না। সুটগুলোর সাথে সবার ডি এন এ চেক করিয়েছি। তবে, দুঃখের বিষয় হলো আমার আর প্রিষ্টন ছাড়া কারো ডি এন এর সাথে কমফোরটেবল না। তাই, ডক্টর লি কে জানালাম। আমরা হায়াতোর কাছে যাবো। আর, বাকিরা মহাকাশের স্পেস স্টেশনে অপেক্ষা করবে।
ডক্টর লি জানালেন, "যদি স্পেস স্টেশনের লোকেরা Deltra 83 ভাইরাসে আক্রান্ত হয়"
কথাটা যেন মাথায় বাজ পড়ার মতো ছিলো। আরে, সত্যিয় তো।
আমি বললাম" তবে?"
"চিন্তা করো না! আমি ব্রডি , কেলভিন কে এক বিশেষ ধরনের ফ্লাইং সসার দিবো। যাতে, তারা মহাকাশের সকল ট্রান্সমিটার মেশিনের আওতায় না আসে।"
" ঠিক আছে" বললাম আমি।
আমি আর প্রিস্টন যেই সুটটা বানিয়েছি! তার মাধ্যমে আমাদের বায়ো ইলেক্ট্রিক ফিল্ডকে কাজে লাগিয়ে যেকোনো জায়গায় আমরা আমাদের মাঝে অদ্ভুত একধরনের প্রটেকশন তৈরি করতে পারবো! তাছাড়া আমাদের মধ্য কিছু নাইট্রো পাওয়ার থাকবে ! এর মাধ্যমে আমরা লেজার গান বানিয়ে শত্রুপক্ষকে আঘাত করতে পারবো। যা স্পেসে এক গুরুত্বপূর্ন বিষয়। কেননা,
স্পেসে তামার বুলেট কোনো কাজের না গ্রাভিটি না থাকার কারনে আমরা সবাই পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করলাম। ডক্টর লি আর ডেবিড আমাদেরকে পৃথিবীতে থেকে নেতৃত্ব দিবে। ডেভিড আমাদের বায়ো ইলেকট্রিক ফিল্ডকে রি- এনার্জাইস করবে। কেননা, কোয়ান্টের প্রসেসর আমাদের পক্ষে নিয়ে স্পেসে ঘোরা সম্বভ না।
সিধান্ত নিলাম ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে রওনা দিবো।এদিকে ডক্টর লি খবর পাঠালেন ফ্লায়ং সসার রেডি। আমরা সবাই শারিরীক এবং মানষিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহন করলাম। আমাদের টিমের নাম দিলাম ,Team 07". যেখানে আমাদের কোড 07। আমি, ব্রডি, কেলভিন, প্রিস্টন, ডেভিড, ডক্টর লি, হেইলি এদের সাতজনকে নিয়ে আমাদের টিম। যদিও হেইলি আমাদের কাছে নেই। তবুও সে আমাদের টিমের মেম্বার। স্পেসে আমি, প্রিস্টন, ব্রডি আর কেলভিন যাব। আমি আর প্রিস্টন যাবো হেইলিকে উদ্ধার করতে আর হায়াতোকে উচিত শিক্ষা দিতে এদিকে, ব্রডি ও কেলভিন ফ্লাইং সসার নিয়ে অপটিমাস গ্যালাক্সিতে থাকবে। সেখানে , আমাদের ডক্টর লি এর বন্ধু আছেন যিনি আমাদেরকে সাহায্য করতে পারেন। আমরা; ফেব্রুয়ারির 10 তারিখ মধ্যরাতে রওনা হলাম। পৃথিবীটাকে আমার শেষ দেখতে হচ্ছে। কেননা, জানিনা ফিরে এসে পৃথিবীটাকে কেমন দেখবো অথবা বেচে থাকবো কিনা!
যাইহোক আমাদের টিম 07 রওনা হলাম পৃথিবী থেকে 75 মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে। তবে, বলে রাখা ভালো আমাদেরকে পৌছাতে মাত্র 10 মিনিট সময় লাগবে। আমরা টেলিপোর্টেশনের মাধ্যমে এই যাত্রা করব । যেখানে, আমাদের টিস্যু,কোষ , রক্ত ও অন্যান্য অংশ আমাদের সাথে বায়ো ইলেকট্রিক ফিল্ডে থাকা ম্যাগনেটিক ইলেক্ট্রন এর মাধ্যমে বাতাসের মাধ্যমে খুব সহজেই পৌছে যাবো । যেমনটা ইন্টারনেট দুনিয়ার ইন্টারনেটের জাল হিসেবে বিচানো থাকে। আর, এই সব সম্ভব হয়েছে আমাদের কাছে থাকা দূর্লভ ক্রিষ্টিয়ালের জন্য ।
আমি আর প্রিষ্টন আমাদের বায়ো ইলেক্ট্রিকফিল্ডকে ব্যাবহার করলাম। যাত্রা করার সময় আমার শরীরে এক অদ্ভুত অনুভূতি হলো। জীবনে কখনো আমি এই অনুভূতি পাইনি ।তবে, যাই বলি না কেন। খুবই কময়ে আমরা 100 মিলিয়ন আলোকবর্ষ অতিক্রম করলাম। যা ছিলো বেশ রোমান্চকর ব্যপার । মনে হচ্ছে আমরা এক ডাইমেনশন থেকে অন্য ডাইমেনশনে প্রবেশ করলাম। এদিকে, ডক্টর লি আর ডেবি ড সারাক্ষন আমাদের সাথে কানেক্টেড। তিনি আমাদের বিভিন্ন গাইডলাইন দিচ্ছেন।কীভাবে কোথায় যেতে হয়। আমরা খুব শিঘ্রই একটা ব্লাক হোল দেখতে পেলাম। ডক্টর লি আমাদের সবই দেখতে পাচ্ছেন। আমাদের ফ্লাইং সসারে 1000 ম্যাগাপিক্সেলের ক্যামেরা বসানো। তিনি বললেন, "ব্লাক হলের ভিতরে ঢুকতে"।
" পাগল হয়ে গেছেন? এর ভিতর পড়লে আমরা চ্যাপ্টা হয়ে যাবো। এখানে আমাদের পৃথিবীর থেকে 10 গুন বেশি গ্রাভিটি" বললাম আমি।
" চিন্তা করো না! আমি যা বলছি তাই কর। তোমাদের কাছে এন্টি গ্রাভিটি ক্রিষ্টাল আছে। এতে তোমাদের কিছূ হবে না।আর , তোমরা সবাই ইলেক্ট্রিক ফিল্ডকে এক্টিভেট করো। যাতে কোনো সমস্যা হলে দূর্ঘটনা না ঘটে।"
আমি প্রিষ্টনকে ডেকে বললাম, " সবাইকে ইলেকট্রিক ফিল্ড এক্টিভেট করতে বলো"
ডক্টর লি তখন বললেন," শোনো। এর মাধ্যমৃ তোমাদের ডাইমেনশনাল ফ্রেজ ভেঙে যাবে। অর্থাৎ তোমরা অন্য ডাইমেনশনে প্রবেশ করবে। চিন্তা করো না। এর ফলে তোমাদের আকৃতির পরিবর্তন হবে না। কেননা, তোমরা তোমাদের বায়ো ইলেক্ট্রিক ফিল্ডকে প্রোটেক্ডেট রেখেছো। এগিয়ে যাও ব্লাক হোলের দিকে"
আমি সসারের স্পিড বাড়ালাম। কিছুক্ষনের মধ্যে আমরা ব্লাক হোলের মধ্যে প্রবেশ করলাম এবং অদ্ভূতভাবে আমরা কেনো জানি বেচে গেলাম।আমাদের ডাইমেনশনাল ফ্রেজ ভেঙ্গে গেলো এবং আমরা অন্য এক ডাইমেনশনে প্রবেশ করলাম। মনের মধ্যে এক অদ্ভুত অনুভূতি হতে লাগলো। যাই হোক, আমরা এগোচ্ছি বাটারফ্লাই গ্যালাক্সির দিকে যেখানে হায়াতোর টিম Redx কে উচীত একটা শিক্ষা দিতে হবে। এদিকে, ডক্টর লি জানালেন! "ডেবিড তোমাদের সাথে আছে। আমি Deltra83 এর এন্টিডোট বানাতে লেগে যাই। "
তিনি আরও জানালেন অঃন্টিডোট তৈরি হলে আমরা স্যটেলাইট ট্রান্সমিটারের মাধ্যেম একধরনের আলোকরশ্মী পৃথিবীতে পাঠাবো। যা,মানুষের দেহের যেকোনো অংশে পড়লে তারা সুস্হ হয়ে যাবে ।
সময়ের পরিক্রমে আমরা বাটার ফ্লাই গ্যালাক্সির দিকে অগ্রসর হতে লাগলাম । তবে, ডক্টর লি এর করা নির্দেশ গ্যালাক্সির শেষ বর্ডারে আগে যেনো আমরা অবতরন করি । আর, সসার নিয়ে ব্রডি আর কেলভিন অপটিমাস গ্যালাক্সিতে যাবে। সেখানে ডক্টর লি এর বন্ধুর স্পেস স্টেশন রয়েছে ।তার কথা মতো তাই করা হলো। আমি আর প্রিস্টন আমাদের বায়ো ইলেক্ট্রিক ফিল্ডকে রি-এনার্জাইস করে এক্টিভ করলাম। কিছুক্ষন পর আমরা বাটার ফ্লাই গ্যালাক্সির বর্ডারে নামলাম। সাথে আছে কয়েকটি ক্রিস্টাল, টেলি পোর্টেশন মর্ফার, একটি কমিউনিকেশন গ্যাজেট আর কিছু না। আমাদের লক্ষ্য, হায়াতোকে ধরে আনা। তবে, বিপত্তি ঘটল বাটার ফ্লাই গ্যালাক্সির মুমু গ্রহতে যাওয়ার সময়। কেননা, সেখানেই আছে হায়াতো। আমাদের চতুর পাশে অপটিক্যাল সেন্সর লাগানো। অর্থাৎ? আমরা সেখানে টার্চ করার সাথে সাথে এলার্ম বেজে উঠবে।
চলবে..

0 Comments