বুকপকেটের গল্প>০০২


[ জলশিশু ]> শব্দ >৩১৩
লেখক: আরকান ফয়সাল
..............দীপঙ্কর তার রাইফেল টা নিয়ে কিবরিয়ার দিকে তেড়ে এলো। মধুমিতা কিবরিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে দুহাত মেলে বলল কি করছো তুমি?প্লিজ শান্ত হও।
দীপঙ্কর বলল ও আমার ছেলের কথা সবাইকে বলে দেবে।সবাইকে।
না।কাউকে বলবে না।তুমি রাইফেলটা ফেলে দাও।
কিবরিয়ার তার মাথায় আঘাত পাওয়া জায়গায় হাত রাখলো।গতরাতে দীঘির শান বাধানো সিড়িতে হুঁশ হারিয়ে পরে গিয়েছিলো কিছু একটা দেখে।
মধুমিতা বলল তুমি রোজ রাতে জানালা দিয়ে দেখতে আমি দীঘির পাড়ে কেন যাই।আর আমার ছেলেকে গতরাতে দেখে ফেলেছো তাই না?আমার ছেলের কথা সত্যি কাউকে বলে দেবে না তো?
না।বলবো না।কিন্তু তোমার ছেলে কিভাবে দীঘির জলে থাকে?এটা কি করে সম্ভব?
দীপঙ্করকে মধুমিতা শান্ত করে ফেলেছে।তাই দীপঙ্কর বলল আমি তখন কাগজ পড়ছিলাম।রুদ্র যে কখন ছোট ছোট পায়ে দীঘির পাড়ে চলে যায় আমি বুঝতে পারি নি।একটা সময় আমি ঝপাৎ শব্দ শুনতে পেলাম।তাকিয়ে দেখি রুদ্র নেই।দীঘির ঢেউ দেখে বুঝলাম রুদ্র জলে পড়ে গেছে।আমিও জলে ঝাপ দিলাম।
কিন্তু রুদ্রকে পেলাম না।
গ্রামবাসীরা এসে ডুব দিলো।কেউ পেল না।কারন দীঘিটা ভীষণ গভীর।
রুদ্রকে হারিয়ে মধুমিতা পাগলের মত হয়ে গেল।একরাতে সে ঘুম থেকে উঠে আমাকে বলল রুদ্র আমায় মা মা বলে ডাকছে দীঘির জল থেকে।রোজ রাতে এমন করাতে আমি একবার বললাম চলো গিয়ে দেখি।এবং সেখানে গিয়ে দেখি আমাদের রুদ্র জলের ভেতর খেলা করছে।আমাদের দেখে কি সুন্দর হেসে দিলো।
আমি তোমাদের রুদ্রকে কাছ থেকে দেখতে চাই।

কিছুসময় পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকতেই জলের ভেতর থেকে মাথা তুললো রুদ্র।কিবরিয়া নিজের দু-চোখকে যেন বিশ্বাস করতে পারছে না।
দীপঙ্কর আর মধুমিতাকে দেখে রুদ্র আনন্দে দুহাত দিয়ে জল ছিঁটিয়ে দিতে লাগলো।দীপঙ্কর আর মধুমিতা জল নেমে গেল।রুদ্রকে দু'হাতে জড়িয়ে চুমু খেতে লাগলো।

কিবরিয়া বলল আমি একটু রুদ্রকে ছুঁয়ে দেখতে পারি?
মধুমিতা বলল নেমে এসো তুমি জলে।

কিবরিয়া জলে নেমে গেল।চাঁদের আলোয় জলে বাস করা এক জলশিশুকে ছুঁয়ে দেখার জন্য।একজীবনে এমন সৌভাগ্যের মুখোমুখি সে আর কখনো না ও হতে পারে।