গল্প: ভুতের সাথে প্রেম
পর্ব:3(শেষ)
লেখক: আশিকুর রহমান
আমি কিছুই না ভেবেই আরিশার সাথে যেতে লাগলাম।
আমরা দু-জন একটা ফুচকার স্টলে বসলাম। আমাদের মতো জোড়া বেধে বসে আছে কিছু তরুণ-তরুণী। আমি আরিশার পাশে গিয়ে বসলাম। প্রথমে বসতে চাইনি কিন্তু তার চোখ রাঙানো দেখে আর মানা করলাম না। কী এক মেয়েরে থুক্কু ভুতরে বাবা। তার জগৎতে কাউকে পেলো না আমার কপালেই জুটলো।
খানিকবাদে,
"এই মিষ্টার ? কী ভাবছেন?"
"কিছুনা!"
"আমাকে নিয়ে ভাবছেন তাই না? আমি সব বুঝি।"
"আপনি কী করে জানলেন?"
"বলতে হয় না রে পাগলা! তোমার মনের সব পড়তে পারি।"
পাশে থাকা এক মেয়ে তার কথা শুনে হাসতে থাকল।
"আপু? হাইসেননা । আসল কথা জানতে পারলে! থাক আর বললাম না।"
আমার হাতে একটা প্লেট ধরিয়ে দিয়েছে আরিশা। ঐ নিজে মজা করে ফুচকা খাচ্ছে। আমি হাবলার মতো বসে আছি।
"কী হলো? খাচ্ছেননা যে?"
"ইয়ে মানে, আমার ফুচকা পছন্দ না।"
"কীহ? আপনি খাবেন নাকি আমি আপনাকে খাবো?"
"খাচ্ছি খাচ্ছি। " তড়িঘড়ি করে বললাম আমি। কী ধরনের ভুত। ফুচকাও খায় আজকাল। আমি গুনে গুনে 2 টা ফুচকা খাইলাম। অতপর, দেখি সে আমাকে বলছে,
"এইযে মিস্টার! একা একা খাচ্ছেন? আমাকে খাওয়াবেননা?"
"আজব তো! আপনি তো আপনারটা খেলেন। আমারটা নজর কেন?"
চোখ গরম করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
"এই নিন।ধরুন! হাত পাতূন!"
"কী? আমাকে খাইয়ে দিন।"
আমিও কিছু না ভেবে তার মুখে পুরে দিলাম। তার ঠোটে আমার আঙুলের স্পর্শ লাগল। তার ঠোট দুটো যেনো প্রশান্ত মহাসাগরের অতল গভীরতার পানির মতো ঠান্ডা। আহা কী নরম।
অতপর, আমরা ফুচকা খেয়ে ব্রিজের ধারে বসলাম। সন্ধা নামছে প্রায়। সূর্য ডোবা দেখছি। হঠাৎ আমাকে সে প্রশ্ন করল।
"আচ্ছা? আমাদের বেবি কত কিউট হবে?"
" মানে কী? বিয়া করার আগে বেবির চিন্তা? আপনি মানুষ আর আমি ভুত তাইনা? ধুর ঘুলায় গেলো। আমি মানুষ আর আপনি ভুত। কেমন সম্ভব?"
"ওহ! তাইলে তুমি বিয়াতে রাজি?"
"পাগল হইছেন?"
"আচ্ছা আমরা কতগুলো বেবি নিবো?" চোখ গরম করে বলল ।আমিও ভয় পেয়ে বললাম!
" আপনি চাইলে আমরা ক্রিকেট টিম বানাবো। "
"সত্যি? আর কত কিউট হবে?"
"ঠিক আপনার মতো!"
মেয়েটা থুক্কু ভুতটা লাফাতে শুরু করল খুশিতে । খুশির ঠেলায় আমাকে জড়িয়ে ধরল।
"আহা! কী করছেন? সবাই দেখছে তো!"
"দেখুক। তাতে কী হয়েছে?"
সন্ধা নামার আগে আমি আর আরিশা বেশ কিছু ছবি তুলি। এতোদিন জানতাম ক্যামেরায় ভুত ধরা যায়না। আজ তার উল্টো।
সেদিন সন্ধায় বৃষ্টি হচ্ছিলো! খুব। আমি হাটছি আর কান্না করছি। না ভুতের খপ্পরের জন্য না। কারন, এই বৃষ্টিতে জড়িয়ে আছে আমার অতীত। এরকম এক বৃষ্টির সন্ধায় আমার ভালোবাসা পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। আজ খুব মনে পড়ছে সাদিয়ার কথা। আমি আর আরিশা পাশাপাশি হাটছি। হঠাৎ,
"কী মিস্টার? চোখে জ্বল?"
"কো কৌ? বৃষ্টির পানি!" কান্নার সুরে বললাম আমি।
"আমি সব বুঝি। তা সেই তুমি টা কে?"
"ইয়ে মানে, আসলে তার নাম সাদিয়া!"
কথাটি শুনে আরিশা দাড়িয়ে যায়।
" তারপর?"
"তারপর আর কী। এরকম এক বৃষ্টির সন্ধায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে । জানেন? আমার কাছে বৃষ্টিটাকে খারাপ লাগে আবার ভালোও। এই বৃষ্টিটা আমকে সাদিয়ার কথা মনে করিয়ে দেয় আবার এই বৃষ্টিটা আমার বুকের ভিতর চাপা কষ্টটা দূর করে দেয়। আমি প্রতি রাত তার কথা ভেবে বালিশ ভিজাই!"
" কী? তার মানে তুমি আমাকে এখনও ভালোবাসো?"
"মানে? "
"আসলে! আমিই তোমার সেই হারিয়ে যাওয়া সাদিয়া। হয়তো তোমার সেই মায়ার টানে তোমার কাছে এসেছি। তবে, আমার আবার টলে যেতে হবে। হয়তো সেটা আজকেই। তবে, আবার আসবো। তুমি নতুন কাউকে খুজো। আমি তোমার এই কষ্টটা দেখতে পাবো না"
"তাহলে এই মেয়েটা কে? "
"আসলে ! এই মেয়েটাই সাদিয়া। তুমি তো কখনো দেখো নি আমাকে। শুধু মরার আগে একবার কথা বলেছিলাম। আমাদের দেখাটা অপূর্ণ রয়ে গেলো।"
আমার মনে পরে গেলো সেই দিনের কথা। অতপর, কিছু না ভেবে আমি শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম তাকে।
"প্লিজ! তুমি কোথাও যেওনা। আমি তো অগোছালো হয়ে গিয়েছি। তোমার জন্য কত রাত কাদিঁ! আল্লাহর কাছে কত তোমার নামে প্রাথর্না করি। তোমার ভালো থাকার জন্য।"
" হুম। সেই জন্যেই আল্লাহ আমাকে ভালো রেখেছেন। তুমি ভালো থেকো। জান্নাতে ইনশাল্লাহ আমাদের দেখা হবে।"
"তুমি চলে যেতে পারো না! আমি যে একা হয়ে যাবো।"
"তুমি লাইফটাকে গুছিয়ে নাও।"
"নাহ প্লিজ যেওনা। আমি তোমায় ছাড়া বাচবো না! "
কথাটি বলতে না বলতেই মেয়েটি হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো।
(সাদিয়া আমি আজও তোমার অপেক্ষায় আছি। তুমি কী আসবে? আমি যে সত্যি তোমায় ছাড়া থাকতে পারি না। তুমি ভুত হয়ে আবার আসো। আমার কোনো সমস্যা নাই। শুধু একটিবার ইনবক্সে আবার নক দিও। শুধু বইলো, এইযে মিষ্টার। আমি এসেছি নতুন রুপে)
😭😭
*প্লিজ অন্য জগৎতের সেই মেয়েটিকে আমায় খুজে দিন।
(সমাপ্ত)
পর্ব:3(শেষ)
লেখক: আশিকুর রহমান
আমি কিছুই না ভেবেই আরিশার সাথে যেতে লাগলাম।
আমরা দু-জন একটা ফুচকার স্টলে বসলাম। আমাদের মতো জোড়া বেধে বসে আছে কিছু তরুণ-তরুণী। আমি আরিশার পাশে গিয়ে বসলাম। প্রথমে বসতে চাইনি কিন্তু তার চোখ রাঙানো দেখে আর মানা করলাম না। কী এক মেয়েরে থুক্কু ভুতরে বাবা। তার জগৎতে কাউকে পেলো না আমার কপালেই জুটলো।
খানিকবাদে,
"এই মিষ্টার ? কী ভাবছেন?"
"কিছুনা!"
"আমাকে নিয়ে ভাবছেন তাই না? আমি সব বুঝি।"
"আপনি কী করে জানলেন?"
"বলতে হয় না রে পাগলা! তোমার মনের সব পড়তে পারি।"
পাশে থাকা এক মেয়ে তার কথা শুনে হাসতে থাকল।
"আপু? হাইসেননা । আসল কথা জানতে পারলে! থাক আর বললাম না।"
আমার হাতে একটা প্লেট ধরিয়ে দিয়েছে আরিশা। ঐ নিজে মজা করে ফুচকা খাচ্ছে। আমি হাবলার মতো বসে আছি।
"কী হলো? খাচ্ছেননা যে?"
"ইয়ে মানে, আমার ফুচকা পছন্দ না।"
"কীহ? আপনি খাবেন নাকি আমি আপনাকে খাবো?"
"খাচ্ছি খাচ্ছি। " তড়িঘড়ি করে বললাম আমি। কী ধরনের ভুত। ফুচকাও খায় আজকাল। আমি গুনে গুনে 2 টা ফুচকা খাইলাম। অতপর, দেখি সে আমাকে বলছে,
"এইযে মিস্টার! একা একা খাচ্ছেন? আমাকে খাওয়াবেননা?"
"আজব তো! আপনি তো আপনারটা খেলেন। আমারটা নজর কেন?"
চোখ গরম করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
"এই নিন।ধরুন! হাত পাতূন!"
"কী? আমাকে খাইয়ে দিন।"
আমিও কিছু না ভেবে তার মুখে পুরে দিলাম। তার ঠোটে আমার আঙুলের স্পর্শ লাগল। তার ঠোট দুটো যেনো প্রশান্ত মহাসাগরের অতল গভীরতার পানির মতো ঠান্ডা। আহা কী নরম।
অতপর, আমরা ফুচকা খেয়ে ব্রিজের ধারে বসলাম। সন্ধা নামছে প্রায়। সূর্য ডোবা দেখছি। হঠাৎ আমাকে সে প্রশ্ন করল।
"আচ্ছা? আমাদের বেবি কত কিউট হবে?"
" মানে কী? বিয়া করার আগে বেবির চিন্তা? আপনি মানুষ আর আমি ভুত তাইনা? ধুর ঘুলায় গেলো। আমি মানুষ আর আপনি ভুত। কেমন সম্ভব?"
"ওহ! তাইলে তুমি বিয়াতে রাজি?"
"পাগল হইছেন?"
"আচ্ছা আমরা কতগুলো বেবি নিবো?" চোখ গরম করে বলল ।আমিও ভয় পেয়ে বললাম!
" আপনি চাইলে আমরা ক্রিকেট টিম বানাবো। "
"সত্যি? আর কত কিউট হবে?"
"ঠিক আপনার মতো!"
মেয়েটা থুক্কু ভুতটা লাফাতে শুরু করল খুশিতে । খুশির ঠেলায় আমাকে জড়িয়ে ধরল।
"আহা! কী করছেন? সবাই দেখছে তো!"
"দেখুক। তাতে কী হয়েছে?"
সন্ধা নামার আগে আমি আর আরিশা বেশ কিছু ছবি তুলি। এতোদিন জানতাম ক্যামেরায় ভুত ধরা যায়না। আজ তার উল্টো।
সেদিন সন্ধায় বৃষ্টি হচ্ছিলো! খুব। আমি হাটছি আর কান্না করছি। না ভুতের খপ্পরের জন্য না। কারন, এই বৃষ্টিতে জড়িয়ে আছে আমার অতীত। এরকম এক বৃষ্টির সন্ধায় আমার ভালোবাসা পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। আজ খুব মনে পড়ছে সাদিয়ার কথা। আমি আর আরিশা পাশাপাশি হাটছি। হঠাৎ,
"কী মিস্টার? চোখে জ্বল?"
"কো কৌ? বৃষ্টির পানি!" কান্নার সুরে বললাম আমি।
"আমি সব বুঝি। তা সেই তুমি টা কে?"
"ইয়ে মানে, আসলে তার নাম সাদিয়া!"
কথাটি শুনে আরিশা দাড়িয়ে যায়।
" তারপর?"
"তারপর আর কী। এরকম এক বৃষ্টির সন্ধায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে । জানেন? আমার কাছে বৃষ্টিটাকে খারাপ লাগে আবার ভালোও। এই বৃষ্টিটা আমকে সাদিয়ার কথা মনে করিয়ে দেয় আবার এই বৃষ্টিটা আমার বুকের ভিতর চাপা কষ্টটা দূর করে দেয়। আমি প্রতি রাত তার কথা ভেবে বালিশ ভিজাই!"
" কী? তার মানে তুমি আমাকে এখনও ভালোবাসো?"
"মানে? "
"আসলে! আমিই তোমার সেই হারিয়ে যাওয়া সাদিয়া। হয়তো তোমার সেই মায়ার টানে তোমার কাছে এসেছি। তবে, আমার আবার টলে যেতে হবে। হয়তো সেটা আজকেই। তবে, আবার আসবো। তুমি নতুন কাউকে খুজো। আমি তোমার এই কষ্টটা দেখতে পাবো না"
"তাহলে এই মেয়েটা কে? "
"আসলে ! এই মেয়েটাই সাদিয়া। তুমি তো কখনো দেখো নি আমাকে। শুধু মরার আগে একবার কথা বলেছিলাম। আমাদের দেখাটা অপূর্ণ রয়ে গেলো।"
আমার মনে পরে গেলো সেই দিনের কথা। অতপর, কিছু না ভেবে আমি শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম তাকে।
"প্লিজ! তুমি কোথাও যেওনা। আমি তো অগোছালো হয়ে গিয়েছি। তোমার জন্য কত রাত কাদিঁ! আল্লাহর কাছে কত তোমার নামে প্রাথর্না করি। তোমার ভালো থাকার জন্য।"
" হুম। সেই জন্যেই আল্লাহ আমাকে ভালো রেখেছেন। তুমি ভালো থেকো। জান্নাতে ইনশাল্লাহ আমাদের দেখা হবে।"
"তুমি চলে যেতে পারো না! আমি যে একা হয়ে যাবো।"
"তুমি লাইফটাকে গুছিয়ে নাও।"
"নাহ প্লিজ যেওনা। আমি তোমায় ছাড়া বাচবো না! "
কথাটি বলতে না বলতেই মেয়েটি হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো।
(সাদিয়া আমি আজও তোমার অপেক্ষায় আছি। তুমি কী আসবে? আমি যে সত্যি তোমায় ছাড়া থাকতে পারি না। তুমি ভুত হয়ে আবার আসো। আমার কোনো সমস্যা নাই। শুধু একটিবার ইনবক্সে আবার নক দিও। শুধু বইলো, এইযে মিষ্টার। আমি এসেছি নতুন রুপে)
😭😭
*প্লিজ অন্য জগৎতের সেই মেয়েটিকে আমায় খুজে দিন।
(সমাপ্ত)

0 Comments