গল্প: তাহারেই মনে পড়ে
ক্যাটাগরী: রোমান্টিক
লেখক: আশিকুর রহমান
পর্ব:১
আকাশে মেঘ ঢাকছে! মনে হয় বৃষ্টি হবে। এদিকে বাস স্টপে কতক্ষণ দাড়িয়ে আছি। একটাও গাড়ি আসছে না। বুঝতে পারছি না কী হবে আজ। এই শহরে নতুন। চেনা জানা কেউ নেই। কার কাছে যাবো? মন খারাপ করে প্রায় আধ ঘন্টা দাড়িয়ে আছি। বৃষ্টির পশলা পড়ছে। মনে হয় একটু পর মুশুলধারে বৃষ্টি হবে। নাহ, বলতে না বলতেই বৃষ্টি শুরু। শরীরটা ভিজতে শুরু করেছে। আশে পাশে কোনো দোকান পাটও নেই যে একটু ঠাই দাড়াবো। হঠাৎ, পেছন থেকে এক রমনীর মিষ্টি সুরে ডাক!
"এইযে মিষ্টার? বৃষ্টিতে ভিচ্ছেন! ঠান্ডা লেগে যাবে"
আমি ঘাড় ঘুড়িয়ে তাকাতেই দেখি! আমার বয়সী এক অপুরুপ রূপসী। মনে হয় আকাশ থেকে মাত্র অবতরণ করেছে।
"আসলে! জানতাম না বৃষ্টি আসবে! " বললাম আমি।
"ওহ! আসুন আমার ছাতার ভিতরে!"
কথাটি শুনে থতমত খেয়ে গেলাম।
"কী হলো। লজ্জা পাচ্ছেন?"
"ইয়ে মানে!"
"আর মানে মানে করা লাগবে না । আসুন!"
আমিও কোনো উপায় না দেখে তার ছাতার এক কোণায় দাড়িয়ে রইলাম।
আমার বয়সী এক মেয়ে। আমি কখনো কোনো মেয়ের পাশে এভাবে দাড়াইনি। খুব লজ্জা পাচ্ছিলাম।
"কী হলো? একেবারে চুপচাপ? লজ্জা পাচ্ছেন বুঝি?"
"নাহ! "আস্তে আস্তে কথাটি বললাম আমি।
"তা নাম কী আপনার?"
"আশিক! মো:আশিকুর রহমান"
"ওহ! আমার নাম জিজ্ঞাস করলেন না?"
"ইয়ে মানে!"
"বুজচ্ছি! বলা লাগবে না। আমিই বলি।
আমার নাম সোহানা আক্তার সুমাইয়া!"
"বাহ! খুব সুন্দর নাম!"
"আপনি আমাকে সুমাইয়া ডাকতে পারেন!"
"হা হা আচ্ছা!"
"কী করেন আপনি?"
"স্টুডেন্ট! আপনি?"
"আমিও! আজ মনে হয় বাস আসবে নাহ। চলুন! আমরা হেটে একটু ঐ দিকটায় বসি।"
"উম, আচ্ছা!"
"কলেজ? কোন ইয়ার?"
"সেকেন্ড ইয়ার!"
"ওহ। আমিও! এই শহরে নতুন বুঝি?"
"জ্বী"
"ঠিক ধরতে পেরেছি। আপনাকে আগে কখনো দেখি নি"
আমি মুচকি হাসলাম। আমি আর সুমাইয়া হাটতে হাটতে আমার বাসার সামনে পৌছুলাম। বসাটা আর হলো না বৃষ্টির কারনে।
"ধন্যবাদ আপনাকে। আমার বাসার সামনে এসে পড়েছি।"
"ওহ। এখানে আপনার বাসা? আমার বাসাটা আরেকটু সামনে।"
"ওহ"
"আচ্ছা। পরে কোনো সময় কথা হবে। আপনি আর আমি তো একই কলেজে। ক্যাম্পাসে কথা হবে।"
"আচ্ছা ধন্যবাদ!"
সেদিন! বাসায় চলে আসলাম । কলেজে আর যাওয়া হলো না। একদিন বিকালে মন খারাপ করে বাসার ছাদে বসে আছি। বাসায় একা থাকি। বুয়া আজকে রান্না করে দেয়নি। তাই, দুপুরে খেতে পাইনি। এদিকে! পকেটে টাকাও নেই যে হোটেল থেকে খেয়ে আসবো। বাবার কাছে চাইতে লজ্জা করে। টিউশনির টাকাটাও এখনো হাতে পাইনি। এসব ভাবতে ভাবতে!
"এইযে মিস্টার!" দূর থেকে একটা আওয়াজ পেলাম। নিচে তাকাতেই দেখি সেদিনের ঐ মেয়েটা। আমাকে ইশারা করছে নিচে আসার জন্য। আমিও তার কথায় শায় দিয়ে বললাম, আসতেছি।
"কেমন আছেন মিস্টার?"
"আলহামদুলিল্লাহ। আপনি?"
"জ্বী ভালো!"
" ঐদিন দেখা হওয়ার পর তো আর খোজঁই নিলেননা! ক্লাসেও আমার সাথে কথা বললেননা!"
"সরি। একটু বিজি ছিলাম। নতুন শহর তো। বাসার টেনশনে একটু ব্যাস্ত ছিলাম।"
" ওহ আচ্ছা।এখন ফ্রি আছেন?"
"জ্বী আপাতত আছি। সন্ধায় একটা টিউশনি আছে।"
"ওহ! আচ্ছা। তাহলে চলুন একটু হেটেঁ আসি।"
"আচ্ছা চলুন!"
হাটতে হাটতে একটা সবুজ মাঠের কাছে এসেছি। ছেলেরা ফুটবল খেলছে। আমি আর সে মাঠের এক কোণায় দাড়িয়ে দেখছি।
"ফুটবল খেলতে পারেন?"
"জ্বী পারি!"
"আচ্ছা ওয়েট!
ঐ রিফাত? দোস্ত এদিকে আয়!"
উচ্চস্বরে সে এক খেলোয়ারকে ডাক দিলো। আর ছেলেটি সাথে সাথে চলে এলো।
"বল! কী হয়েছে!" অচেনা ছেলেটি বলল।
"দোস্ত! এ(আমি) হচ্ছে আমার নতুন বন্ধু। শহরে নতুন এসেছে। তুই একটু তোদের সাথে খেলতে নে তো!"
"আচ্ছা। ভাইয়া আসো আমার সাথে!" বলল আমাকে।
আমিও পায়ের প্যান্ট গুটিয়ে নেমে গেলাম। আর তার দিকে তাকাচ্ছিলাম। সেও আমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
আমি খুব চেষ্টা করে একটা গোল দিলাম । আর, তৎক্ষনাৎ সে চেচিয়ে উঠল "গোল!"
আমিও খুশিতে সবার সাথে হাত মিলালাম। মনটা খুশিতে ভরে গেলো। নতুন ছেলেদের সাথে বন্ধুত্ব হলো তাই। অতপর, সন্ধা নামছে।
খেলাও শেষ হলো । আমি তার কাছে ফিরে গেলাম।
"কেমন লাগল?" প্রশ্ন করল আমাকে
"জ্বী ভালো।তবে, আজ যেতে হবে। অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। "
"হ্যা। তা তো বটেই!"
আমি সুমাইয়াকে তার বাসার সামনে পৌছে দিলাম। মেয়েটি কতবার বলল যেতে পারবে। তাও পৌছে দিলাম। সন্ধা নামছে। একা একটা মেয়েকে ছাড়া ঠিক হবে? আমার একটা কর্তব্য আছে না?
অতপর, বাসায় এসে গোসল করে নিলাম। গায়ে ঘাম লেগে আছে। তারপর, টিউশনির উদ্দ্যেশ্যে রওনা হলাম।
চলবে
ক্যাটাগরী: রোমান্টিক
লেখক: আশিকুর রহমান
পর্ব:১
আকাশে মেঘ ঢাকছে! মনে হয় বৃষ্টি হবে। এদিকে বাস স্টপে কতক্ষণ দাড়িয়ে আছি। একটাও গাড়ি আসছে না। বুঝতে পারছি না কী হবে আজ। এই শহরে নতুন। চেনা জানা কেউ নেই। কার কাছে যাবো? মন খারাপ করে প্রায় আধ ঘন্টা দাড়িয়ে আছি। বৃষ্টির পশলা পড়ছে। মনে হয় একটু পর মুশুলধারে বৃষ্টি হবে। নাহ, বলতে না বলতেই বৃষ্টি শুরু। শরীরটা ভিজতে শুরু করেছে। আশে পাশে কোনো দোকান পাটও নেই যে একটু ঠাই দাড়াবো। হঠাৎ, পেছন থেকে এক রমনীর মিষ্টি সুরে ডাক!
"এইযে মিষ্টার? বৃষ্টিতে ভিচ্ছেন! ঠান্ডা লেগে যাবে"
আমি ঘাড় ঘুড়িয়ে তাকাতেই দেখি! আমার বয়সী এক অপুরুপ রূপসী। মনে হয় আকাশ থেকে মাত্র অবতরণ করেছে।
"আসলে! জানতাম না বৃষ্টি আসবে! " বললাম আমি।
"ওহ! আসুন আমার ছাতার ভিতরে!"
কথাটি শুনে থতমত খেয়ে গেলাম।
"কী হলো। লজ্জা পাচ্ছেন?"
"ইয়ে মানে!"
"আর মানে মানে করা লাগবে না । আসুন!"
আমিও কোনো উপায় না দেখে তার ছাতার এক কোণায় দাড়িয়ে রইলাম।
আমার বয়সী এক মেয়ে। আমি কখনো কোনো মেয়ের পাশে এভাবে দাড়াইনি। খুব লজ্জা পাচ্ছিলাম।
"কী হলো? একেবারে চুপচাপ? লজ্জা পাচ্ছেন বুঝি?"
"নাহ! "আস্তে আস্তে কথাটি বললাম আমি।
"তা নাম কী আপনার?"
"আশিক! মো:আশিকুর রহমান"
"ওহ! আমার নাম জিজ্ঞাস করলেন না?"
"ইয়ে মানে!"
"বুজচ্ছি! বলা লাগবে না। আমিই বলি।
আমার নাম সোহানা আক্তার সুমাইয়া!"
"বাহ! খুব সুন্দর নাম!"
"আপনি আমাকে সুমাইয়া ডাকতে পারেন!"
"হা হা আচ্ছা!"
"কী করেন আপনি?"
"স্টুডেন্ট! আপনি?"
"আমিও! আজ মনে হয় বাস আসবে নাহ। চলুন! আমরা হেটে একটু ঐ দিকটায় বসি।"
"উম, আচ্ছা!"
"কলেজ? কোন ইয়ার?"
"সেকেন্ড ইয়ার!"
"ওহ। আমিও! এই শহরে নতুন বুঝি?"
"জ্বী"
"ঠিক ধরতে পেরেছি। আপনাকে আগে কখনো দেখি নি"
আমি মুচকি হাসলাম। আমি আর সুমাইয়া হাটতে হাটতে আমার বাসার সামনে পৌছুলাম। বসাটা আর হলো না বৃষ্টির কারনে।
"ধন্যবাদ আপনাকে। আমার বাসার সামনে এসে পড়েছি।"
"ওহ। এখানে আপনার বাসা? আমার বাসাটা আরেকটু সামনে।"
"ওহ"
"আচ্ছা। পরে কোনো সময় কথা হবে। আপনি আর আমি তো একই কলেজে। ক্যাম্পাসে কথা হবে।"
"আচ্ছা ধন্যবাদ!"
সেদিন! বাসায় চলে আসলাম । কলেজে আর যাওয়া হলো না। একদিন বিকালে মন খারাপ করে বাসার ছাদে বসে আছি। বাসায় একা থাকি। বুয়া আজকে রান্না করে দেয়নি। তাই, দুপুরে খেতে পাইনি। এদিকে! পকেটে টাকাও নেই যে হোটেল থেকে খেয়ে আসবো। বাবার কাছে চাইতে লজ্জা করে। টিউশনির টাকাটাও এখনো হাতে পাইনি। এসব ভাবতে ভাবতে!
"এইযে মিস্টার!" দূর থেকে একটা আওয়াজ পেলাম। নিচে তাকাতেই দেখি সেদিনের ঐ মেয়েটা। আমাকে ইশারা করছে নিচে আসার জন্য। আমিও তার কথায় শায় দিয়ে বললাম, আসতেছি।
"কেমন আছেন মিস্টার?"
"আলহামদুলিল্লাহ। আপনি?"
"জ্বী ভালো!"
" ঐদিন দেখা হওয়ার পর তো আর খোজঁই নিলেননা! ক্লাসেও আমার সাথে কথা বললেননা!"
"সরি। একটু বিজি ছিলাম। নতুন শহর তো। বাসার টেনশনে একটু ব্যাস্ত ছিলাম।"
" ওহ আচ্ছা।এখন ফ্রি আছেন?"
"জ্বী আপাতত আছি। সন্ধায় একটা টিউশনি আছে।"
"ওহ! আচ্ছা। তাহলে চলুন একটু হেটেঁ আসি।"
"আচ্ছা চলুন!"
হাটতে হাটতে একটা সবুজ মাঠের কাছে এসেছি। ছেলেরা ফুটবল খেলছে। আমি আর সে মাঠের এক কোণায় দাড়িয়ে দেখছি।
"ফুটবল খেলতে পারেন?"
"জ্বী পারি!"
"আচ্ছা ওয়েট!
ঐ রিফাত? দোস্ত এদিকে আয়!"
উচ্চস্বরে সে এক খেলোয়ারকে ডাক দিলো। আর ছেলেটি সাথে সাথে চলে এলো।
"বল! কী হয়েছে!" অচেনা ছেলেটি বলল।
"দোস্ত! এ(আমি) হচ্ছে আমার নতুন বন্ধু। শহরে নতুন এসেছে। তুই একটু তোদের সাথে খেলতে নে তো!"
"আচ্ছা। ভাইয়া আসো আমার সাথে!" বলল আমাকে।
আমিও পায়ের প্যান্ট গুটিয়ে নেমে গেলাম। আর তার দিকে তাকাচ্ছিলাম। সেও আমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
আমি খুব চেষ্টা করে একটা গোল দিলাম । আর, তৎক্ষনাৎ সে চেচিয়ে উঠল "গোল!"
আমিও খুশিতে সবার সাথে হাত মিলালাম। মনটা খুশিতে ভরে গেলো। নতুন ছেলেদের সাথে বন্ধুত্ব হলো তাই। অতপর, সন্ধা নামছে।
খেলাও শেষ হলো । আমি তার কাছে ফিরে গেলাম।
"কেমন লাগল?" প্রশ্ন করল আমাকে
"জ্বী ভালো।তবে, আজ যেতে হবে। অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। "
"হ্যা। তা তো বটেই!"
আমি সুমাইয়াকে তার বাসার সামনে পৌছে দিলাম। মেয়েটি কতবার বলল যেতে পারবে। তাও পৌছে দিলাম। সন্ধা নামছে। একা একটা মেয়েকে ছাড়া ঠিক হবে? আমার একটা কর্তব্য আছে না?
অতপর, বাসায় এসে গোসল করে নিলাম। গায়ে ঘাম লেগে আছে। তারপর, টিউশনির উদ্দ্যেশ্যে রওনা হলাম।
চলবে

0 Comments