গল্প: তাহারেই মনে পড়ে
ক্যাটাগরী: রোমান্টিক
লেখক: আশিকুর রহমান
পর্ব:2
টিউশনিতে গিয়ে দেখি আমার ছাত্রী মন দিয়ে বসে পড়তেছে।
"কী অবস্থা রাফিকা?"
"স্যার। বসেন আমি একটু আসতেছি!"
আমি টেবিলের কাছে থাকা চেয়ারটা টান দিয়ে বসে পড়লাম। দেখলাম! সে ম্যাগাজিন পড়তেছে। আমি ম্যাগাজিনটা হাতে নিয়ে পড়তে দেখতে লাগলাম। হঠাৎ একটা আর্টিকলে চোখ আটকে গেল । বেশ অবাক হলাম। আরেহ, এতো সুমাইয়ার ছবি এবং লেখা। বাহ! মেয়েটা তো বেশ ভালো লেখে।
আর্টিকেলটা পড়তে পড়তে হঠাৎ আমার পেছন থেকে রাফিকা বলে উঠল,
"স্যার? এই আপুকে চিনেন?"
"জ্বী! আমার ফ্রেন্ড!" হাসিমুখে বললাম আমি।
"বাহ! শহরে নতুন এসে ফ্রেন্ড বানিয়ে নিলেন আমারে জানালেন না?"
"তুমি জেনে কী করবা?! যাক বাদ দাও! তুমি পড়ায় মন দাও!"
"হইছে। আর বলা লাগবে না। এইযে ম্যাথ । করায় দেন!" অভিমানের সুরে আমাকে কথাটি বলল রাফিকা!
অতপর, টিউশনে তে একটু নাস্তা পাওয়া গেলো। যাক! রাতের খাবারটা কপালে জুটলো। টিউশনি শেষ করে বাসায় ফিরলাম।
শুয়ে শুয়ে ফেসবুক স্ক্রলিং করতেছি। হঠাৎ একটা আপরিচিত মেয়ে আইডি থেকে রিকোয়েষ্ট আসলো। ফেক আইডি কিনা চেক করার জন্য আইডি ঘাটতে লাগলাম। দেখলাম মিচুয়ালে সেদিনের ঐ খেলার প্লেয়ার রিফাতের আইডি সহ আরো কয়েকজন। তাই এক্সেপ্ট করলাম। একসেপ্ট করার সাথে সাথে মেসেজ!
"ঐ এতো দেরী কেনো এক্সেপ্ট করতে? আমি সুমাইয়া!"
"ওহ। সরি! আসলে ফেক আইডি কিনা চেক করছিলাম পরে দেখলাম আপনার ফ্রেন্ডদের সাথে মিচুয়াল। তাই একসেপ্ট করলাম!"
"কী করো তুমি?"
"শুয়ে আছি। আপনি?"
"আমিও। তুমি করে বলতে পারো না😠"
"হা হা! অভ্যাস করা লাগবে।এখন হবে না!"
"তাড়াতাড়ি অভ্যাস করো😠!"
"রাগ দেখাচ্ছেন কেনো?"
"শোনো। কালকে কলেজে অফ পিরিয়ডে ক্যান্টিনে দেখা করবা। না হলে তোমাকে খূন করবো।"
"আচ্ছা। ঠিক আছে!"
"আর শোনো! তোমার জন্মদিপ কবে?"
"ক্যান? জানা প্রয়োজন?"
"বলবা? নাকি খুন করবো?"
"28 শে জুলাই!"
"আচ্ছা। নোট করে নিলাম। তোমাকে সারপ্রাইস দিবো। "
"আচ্ছা!ধন্যবাদ। কিন্তু এখনো অনেক দেরী!"
"হুম। তা এতো রাত জেগো না! ঘুমাও ।"
"হুম একটু পর। আপনিও ঘুমান!"
"হুম"
পরদিন,
কলেজের অফ পিরিয়ড অর্থাৎ, টিফিন পিরিয়ডে আমি ক্যান্টিনের সামনে একটি বেন্চে বসে আছি। ক্যান্টিনের ভিতর প্রচুর ভিড়। তাই আর ভিতরে যেতে মন চাইল না। এদিকে গতকাল রাফিকা টিউশনির টাকাটা দিয়েছে। তাই এখন টাকা পয়সা নিয়ে কোনো ঝামেলা নেই। এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ ভয় দেখানোর মতো সুমাইয়া সামনে এস পড়লো
"ভাও!" বলল সুমাইয়া।
"আরে আপনি"
"কী হলো। ভয় পেলা না! কত কষ্ট করে ভয় দেখালাম।"
"আচ্ছি সরি। নেক্সট টাইম ভয় দেখালে চিৎকার দিবো!"
"মজা কর আমার সাথে? যা সরে বসো। আমাকে সাইড দাও বসবো!"
" আমার পাশে? এতো লোকের ভিড়ে?"
"তো কী হয়েছে? ফ্রেন্ড হইনা?"
"আচ্ছা বসেন!"
আমার সাইডে বসার পর ।
"তা কী করছিলে এখানে?"
"এমনি এখানে বসে ছিলাম। ক্যান্টিনে ভিড় তাই ঢূকতে পারি নাই।"
"ওহ। খাবার খেয়েছে!"
"হুম। খেয়েছি!"
আমার কথা শুনে সুমাইয়া ব্যাগ থেকে তার টিফিনটা বের করল। আর বলতে লাগল!
"আমাকে পাগল পাইছো? ক্যান্টিনে ডূকতে পারো নাই। আবার বল খাইছি! এই নাও। আজকে তোমার জন্য বেশি করে টিফিন এনেছি। আম্মুকে তোমার কথা বলছি। তাই বেশি করে টিফিন দিয়েছে।"
"এসবের কী দরকার। আমি খেয়েছি! আপনি খান!"
"তুমি খাবে নাকি তোমাকে এখন পুকুরে চেলে ফালাব?"
"না! এটা পারব না"
" আচ্ছা আমি চলে যাচ্ছি। আর কখনো তোমার সাথে কথা বলব না। শয়তান!"
"আচ্ছা সরি। আপনি শুরু করেন। আমি পরে খাচ্ছি!"
"নাহ! আমি খাইয়ে দিচ্ছি।"
"ওকে" লজ্জা একটা ভাব নিয়ে বললাম। টিফিন খাওয়ানোর পর আমার সাথে গল্প করা শুরু করল তবে কপাল খারাপ। টিফিন বিরতি শেষ! অতপর আমরা ক্লাসে চলে গেলাম। "
চলবে!
ক্যাটাগরী: রোমান্টিক
লেখক: আশিকুর রহমান
পর্ব:2
টিউশনিতে গিয়ে দেখি আমার ছাত্রী মন দিয়ে বসে পড়তেছে।
"কী অবস্থা রাফিকা?"
"স্যার। বসেন আমি একটু আসতেছি!"
আমি টেবিলের কাছে থাকা চেয়ারটা টান দিয়ে বসে পড়লাম। দেখলাম! সে ম্যাগাজিন পড়তেছে। আমি ম্যাগাজিনটা হাতে নিয়ে পড়তে দেখতে লাগলাম। হঠাৎ একটা আর্টিকলে চোখ আটকে গেল । বেশ অবাক হলাম। আরেহ, এতো সুমাইয়ার ছবি এবং লেখা। বাহ! মেয়েটা তো বেশ ভালো লেখে।
আর্টিকেলটা পড়তে পড়তে হঠাৎ আমার পেছন থেকে রাফিকা বলে উঠল,
"স্যার? এই আপুকে চিনেন?"
"জ্বী! আমার ফ্রেন্ড!" হাসিমুখে বললাম আমি।
"বাহ! শহরে নতুন এসে ফ্রেন্ড বানিয়ে নিলেন আমারে জানালেন না?"
"তুমি জেনে কী করবা?! যাক বাদ দাও! তুমি পড়ায় মন দাও!"
"হইছে। আর বলা লাগবে না। এইযে ম্যাথ । করায় দেন!" অভিমানের সুরে আমাকে কথাটি বলল রাফিকা!
অতপর, টিউশনে তে একটু নাস্তা পাওয়া গেলো। যাক! রাতের খাবারটা কপালে জুটলো। টিউশনি শেষ করে বাসায় ফিরলাম।
শুয়ে শুয়ে ফেসবুক স্ক্রলিং করতেছি। হঠাৎ একটা আপরিচিত মেয়ে আইডি থেকে রিকোয়েষ্ট আসলো। ফেক আইডি কিনা চেক করার জন্য আইডি ঘাটতে লাগলাম। দেখলাম মিচুয়ালে সেদিনের ঐ খেলার প্লেয়ার রিফাতের আইডি সহ আরো কয়েকজন। তাই এক্সেপ্ট করলাম। একসেপ্ট করার সাথে সাথে মেসেজ!
"ঐ এতো দেরী কেনো এক্সেপ্ট করতে? আমি সুমাইয়া!"
"ওহ। সরি! আসলে ফেক আইডি কিনা চেক করছিলাম পরে দেখলাম আপনার ফ্রেন্ডদের সাথে মিচুয়াল। তাই একসেপ্ট করলাম!"
"কী করো তুমি?"
"শুয়ে আছি। আপনি?"
"আমিও। তুমি করে বলতে পারো না😠"
"হা হা! অভ্যাস করা লাগবে।এখন হবে না!"
"তাড়াতাড়ি অভ্যাস করো😠!"
"রাগ দেখাচ্ছেন কেনো?"
"শোনো। কালকে কলেজে অফ পিরিয়ডে ক্যান্টিনে দেখা করবা। না হলে তোমাকে খূন করবো।"
"আচ্ছা। ঠিক আছে!"
"আর শোনো! তোমার জন্মদিপ কবে?"
"ক্যান? জানা প্রয়োজন?"
"বলবা? নাকি খুন করবো?"
"28 শে জুলাই!"
"আচ্ছা। নোট করে নিলাম। তোমাকে সারপ্রাইস দিবো। "
"আচ্ছা!ধন্যবাদ। কিন্তু এখনো অনেক দেরী!"
"হুম। তা এতো রাত জেগো না! ঘুমাও ।"
"হুম একটু পর। আপনিও ঘুমান!"
"হুম"
পরদিন,
কলেজের অফ পিরিয়ড অর্থাৎ, টিফিন পিরিয়ডে আমি ক্যান্টিনের সামনে একটি বেন্চে বসে আছি। ক্যান্টিনের ভিতর প্রচুর ভিড়। তাই আর ভিতরে যেতে মন চাইল না। এদিকে গতকাল রাফিকা টিউশনির টাকাটা দিয়েছে। তাই এখন টাকা পয়সা নিয়ে কোনো ঝামেলা নেই। এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ ভয় দেখানোর মতো সুমাইয়া সামনে এস পড়লো
"ভাও!" বলল সুমাইয়া।
"আরে আপনি"
"কী হলো। ভয় পেলা না! কত কষ্ট করে ভয় দেখালাম।"
"আচ্ছি সরি। নেক্সট টাইম ভয় দেখালে চিৎকার দিবো!"
"মজা কর আমার সাথে? যা সরে বসো। আমাকে সাইড দাও বসবো!"
" আমার পাশে? এতো লোকের ভিড়ে?"
"তো কী হয়েছে? ফ্রেন্ড হইনা?"
"আচ্ছা বসেন!"
আমার সাইডে বসার পর ।
"তা কী করছিলে এখানে?"
"এমনি এখানে বসে ছিলাম। ক্যান্টিনে ভিড় তাই ঢূকতে পারি নাই।"
"ওহ। খাবার খেয়েছে!"
"হুম। খেয়েছি!"
আমার কথা শুনে সুমাইয়া ব্যাগ থেকে তার টিফিনটা বের করল। আর বলতে লাগল!
"আমাকে পাগল পাইছো? ক্যান্টিনে ডূকতে পারো নাই। আবার বল খাইছি! এই নাও। আজকে তোমার জন্য বেশি করে টিফিন এনেছি। আম্মুকে তোমার কথা বলছি। তাই বেশি করে টিফিন দিয়েছে।"
"এসবের কী দরকার। আমি খেয়েছি! আপনি খান!"
"তুমি খাবে নাকি তোমাকে এখন পুকুরে চেলে ফালাব?"
"না! এটা পারব না"
" আচ্ছা আমি চলে যাচ্ছি। আর কখনো তোমার সাথে কথা বলব না। শয়তান!"
"আচ্ছা সরি। আপনি শুরু করেন। আমি পরে খাচ্ছি!"
"নাহ! আমি খাইয়ে দিচ্ছি।"
"ওকে" লজ্জা একটা ভাব নিয়ে বললাম। টিফিন খাওয়ানোর পর আমার সাথে গল্প করা শুরু করল তবে কপাল খারাপ। টিফিন বিরতি শেষ! অতপর আমরা ক্লাসে চলে গেলাম। "
চলবে!

0 Comments