#Lost_City_Of_Atlantis 
লেখক:#শাহরিয়ার_হাছান
পর্ব-১৪&শেষ

ইওন এবং ফারহানের সামনে থাকা ছবিগুলো যেন ভবিষ্যৎ বলছে। ছবিগুলোতে ফারহান এবং ইওনের সাথে ঘটে চলা সকল ঘটনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে ওটা ঝড়ের পেছনে আটলাসের হাত ছিল সেটাও ছবিতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। 
ইওন সকল ছবি পর্যালোচনা করে বলল, ‘আটলাসের পোষা প্রাণীটা আই অফ সাহারার মাটির নিচে চাপা পড়ে ছিল। হাজার বছর ধরে ভৌগলিক অবস্থার পরিবর্তনের ফলে সেই প্রাণীটা মুক্তি পায়। আটলাস আই অফ সাহারার ভর প্রাণীটার ওপর দিয়ে দেয় আটলাস। কিন্তু সে নিজের ট্রাইডেন্ট নাড়াতে পারে না, কারণ তার দেহ পুরো নষ্ট হয়ে গেছে। সমুদ্রের জল থেকেও সে ওঠতে পারে না অভিশাপের কারণে। তাই নিজের ক্ষমতা বলে সে সমুদ্রে ঝড় ওঠায়, মানুষকে নিয়ে যায়। তাদের মেরে তাদের রুহ আই অফ সাহারাতে নিয়ে আসে। তাদের আত্মার শক্তি চুষে চুষে সে শক্তিশালী হতে থাকে। পরবর্তীতে সে বুঝতে পারে এভাবে সে তার অস্তিত্ব পৃথিবীর বুকে আনতে পারবে না। তাই ভিন্ন ফন্দি আটে। আমাদের সেখানে নিয়ে যায়। তার ট্রাইডেন্ট অর্থাৎ ত্রিশূল যেন আমরা নিয়ে আসি। এতে সে তার ত্রিশূল দ্বারা আমাদের দেহে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু আমাদের মধ্যে মহাজাগতিক ক্ষমতা থাকায় সে ব্যর্থ হয়।’
ফারহান বলে উঠল, ‘এর অর্থ ত্রিশূল যে চুরি করেছে সে সাধারণ মানুষ হলে তার দেহে আটলাসের আত্মা প্রবেশ করতে পারবে। তাহলে তো আটলাস আবার পৃথিবীতে নিজের অস্তিত্ব ফিরে পাবে।’
_ “আমাদের দ্রুত চোরকে খুঁজে বের করতে হবে। দেরি হলে বিপদ!’’ বলল ইওন।
তাদের কান জোড়া খরগোশের মতো খাড়া হয়ে গেল। এই বাড়িতে তৃতীয় কোন ব্যক্তি উপস্থিত রয়েছে। পদধ্বনির শব্দ পাচ্ছে তারা। তারা অপরের দিকে তাকালো। শব্দের উৎস অনুসরণ করে তারা পেছন ফিরল। ধীর পায়ে তারা সোজা বরাবর সামনে থাকা ঘরের দিকে যেতে লাগল। ঘরটার ভেতরে প্রবেশ করতেই তারা থমকে দাঁড়াল। রুমের মধ্যে একজন বৃদ্ধ লোক বসে আছেন। লোকটার চোখ দেখে বোঝা যাচ্ছে তিনি অন্ধ। 
দরজা খোলার শব্দ পেয়ে লোকটা বলে উঠলেন, ‘কে? কে ওখানে?’
ফারহান বলে উঠল, ‘জ্বী, আমরা পুলিশ। এই বাড়িতে থাকা লোকটা বছর খানেক আগে খুন হয়। তার তদন্ত করতে এসেছি।’
অন্ধ লোকটা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে তিনি বললেন, ‘আমার ছেলেটা বছর খানেক আগে খুন হয়। আমি অন্ধ বাবা, আমার করার কিছু ছিল না। আমি গিয়েছিলাম থানায় কিন্তু পুলিশকে উপযুক্ত প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হই যে ও আমার সন্তান। অন্ধ পিতা কী আর করব। হতাশ হয়ে ফিরে আসি। ওর খুনের বিচার হবে না তা আমি বেশ ভালো করেই জানি। আমি এই বিশাল বাড়িতে আমার কাজের লোকের সাথে থাকি। তোমাদের সাহায্য করার মতো কিছুই আমার জানা নেই। অন্ধ পিতা কী করেই -বা জানবে ছেলে কী করত না করত? কিভাবেই বা জানবে ছেলের শত্রু কে?’
ফারহান আর ইওন কিছু বলল না। তারা সেখান থেকে বিদায় নিয়ে চলে এলো। 
.
.
 গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পড়ছে, সেই সাথে মৃদু বাতাস বয়ে চলেছে। আকাশে কিছুক্ষণ পরপর বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। বাড়ির ছাঁদে দাঁড়িয়ে আরিফ দৃশ্যটা উপভোগ করছে। এই বৃষ্টি-বাদল, বাতাস, বজ্র সে ত্রিশূল দ্বারাই এনেছে। আচমকা একটা বজ্রপাত তার ওপর এসে পড়ল। সে চিৎকার দিয়ে উঠল। পরোক্ষণে নীরবতা, বৃষ্টির বেগ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আকাশে মেঘ গর্জে উঠছে তারই কিছুক্ষণ পর বজ্রপাত হচ্ছে। ছাঁদে ওপর থাকা মানব দেহটা হুট করেই যেন দৈর্ঘ্যে এবং প্রস্থ বেশ খানিকটা বড় হয়ে গেল। 
.
.
_ “আজ হঠাৎ এত বৃষ্টি হচ্ছে? সেই সাথে সেকেণ্ডে সেকেণ্ডে বজ্রপাত। বিষয়টা আমার কেন জানি স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না।’’ বলল ইওন। 
ফারহান কিছু বলল না, চুপচাপ সে পথের দ্বার ঘেঁষে হেঁটে চলল। আচমকা বহুরূপী ফারহানের কাছে ছুটে এসে তার কানে কিছু একটা বলল। তৎক্ষণাৎ সে ইওনকে তার সাথে যেতে বলল। বহুরূপীকে অনুসরণ করে এগিয়ে চলছে তারা। বহুরূপী তাদের শহর হতে বেশ খানিকটা দূরে নিয়ে এলো। নিয়ে এলো একটা পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে। বাড়িটা তুলনামূলক বেশি অন্ধকার। যেন এই স্থানে রাজ্যের অন্ধকার বাসা বেঁধেছে। আশেপাশে ঘনঘন বজ্রপাতও হচ্ছে।
ইওনের বৃষ্টির গতিবেগ দেখে বলে উঠল, ‘মনে হচ্ছে এই বৃষ্টি পুরো শহর ডুবিয়ে দেবে।’
_ “ঠিক ধরেছ।’’ হেসে বলল ফারহান। হাতের ইশারায় সে বাড়িটার ছাঁদে তাকাতে বলল। ছাঁদের দিকে তাকিয়ে ইওন যা বোঝার বুঝে গেল। সে বলল, ‘আহ! আজ আমার তলোয়ার সাথে নেই। তোমার শিকার, যাও থাবা দেও।’
ফারহান উড়ে ছাঁদে গিয়ে দাঁড়াল। ছাঁদে দাঁড়িয়ে থাকা লম্বা ব্যক্তিটা বলে উঠল, ‘সমুদ্রে ঝড় তুলি, বজ্রপাত করি। ভেবেছিলাম তুমি মারা যাবে। কিন্তু যাওনি মারা। তার বদলে আমার ঝড়ের সাথেই তুমি আমার দেহের নিকটে চলে আসো। আমার পোষা প্রাণীটাও তোমাকে মারতে ব্যর্থ হয়। তাই আর কী করার নিজের পথের কাটা সরাতে স্বয়ং আমাকেই আসতে হলো।’
ফারহান তাচ্ছিল্যের সুরে বলল, ‘দেবতা পসাইডনের অভিশপ্ত পুত্র আটলাসের সাক্ষাৎকার পেয়ে সত্যিই আমি খুব আনন্দিত।’
আটলাস তার ত্রিশূল ফারহানের দিকে লক্ষ্য করে ছুঁড়ে মারল। সোজা সেটা ফারহানের বুক ছেদ করে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে এলো। আটলাস অট্টহাসিতে মেতে উঠল।
_ “হাসার কিছু নাই। ওটা আমার দ্বারা তৈরি একটা ছায়া ছিল মাত্র।’’
আটলাস পেছন ফিরে ফারহানকে দেখে থমকে দাঁড়াল। আটলাসের ছোঁড়া ট্রাইডেন্ট হাতে সে দাঁড়িয়ে। শুরু হলো আটলাস আর ফারহানের মধ্যে যুদ্ধ। মহাজাগতিক দুটি প্রাণী মধ্যাকার যুদ্ধে। আটলাস পানি আর বজ্রপাত দ্বারা ফারহানকে আঘাত করছে, অপরদিকে ফারহান তার অন্ধকার শক্তি দ্বারা আটলাসের আক্রমণ প্রতিহত করছে। 
ইওন বহুরূপীকে বলল, ‘ওদের যুদ্ধ আধা ঘণ্টা ধরে চলছে। এদিকে শহরে ঝড়! সাথে শিলাবৃষ্টি। বহুরূপী, তুমি গিয়ে আমার তলোয়ারটা নিয়ে আসো।’
বহুরূপী উড়াল দিলো, নিজের সর্বোচ্চ গতিতে সে এগিয়ে যেতে লাগল। বহুরূপী ইওনের তলোয়ার নিয়ে আসার পূর্বের ফারহান তার ক্ষমতা বলে আটলাসের ট্রাইডেন্ট ভেঙ্গে দিলো। তৎক্ষণাৎ আরিফের দেহ ছোট হতে থাকল। মানব আকৃতিতে ফিরে এলো। আটলাস আরিফের দেহ ছেড়ে চলে গেছে।
_ “ওহ! সব জাদু এই ত্রিশূলের।’’ বলে উঠল ফারহান।
আরিফ প্রচণ্ড ভয় পায়। কী হচ্ছে সে বুঝতে পারে না। ওঠে দাঁড়াল সে, উলট দিকে ঘুরে দৌড় দিলো সে। ধপাস করে সে ছাঁদ থেকে পড়ে গেল। তৎক্ষণাৎ সে মারা গেল। ধীরে ধীরে ঝড় থেমে যেতে লাগল। 
.
.
 পরের দিন সকালে। ভাঙ্গা ত্রিশূল হাতে নিজের ঘরে দাঁড়িয়ে আছে ফারহান। ত্রিশূলটা দিয়ে করবে তা সে এখনো বুঝতে পারছে না। ইওন ফারহানকে চিন্তিত অবস্থায় দেখে বলে উঠল, ‘এত ভাবার কী আছে? ভাঙ্গা ত্রিশূলটা তুমি তোমার নাতির খেলনা হিসেবে ব্যবহার করো, নাতিকে দিও। ভবিষ্যৎ নাতি!’ মজার ছলে কথাটা বলল ইওন।
ফারহান ইওনের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, ‘বুদ্ধিটা মন্দ নয়!’
ইওন টিভি ছাড়ল। নিউজ বলছে, 'করোনায় মোট আক্রান্ত সংখ্যা ৬২১ জন।’
ইওন ফারহানের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, 'তা গ্রামে কী এখন যাবে নাকি পরে?’
ফারহান ভাঙা ত্রিশূলের দিকে ততাকিয়ে বলল, 'Stay home, Stay safe.’

সমাপ্ত