গল্প: ডার্কেসী
লেখক:আশিকুর রহমানPart:1
অদ্ভুদ এক দরজার মধ্য দিয়ে প্রবেশ করলাম আমি এবং জেসন। বোঝা যাচ্ছে না এটা আসলে কী! REDx নামক অসাধু চক্রটি হয়তো জানতে পেরে গেছে আমাদের কাছে Deltra83 এর এন্টিডোট রয়েছে। তাই, হয়তো এখানে আমাদের ডেকেছে। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। আমরা এখন আছি পৃথিবী থেকে 5 মিলিয়ন আলোকবর্ষদূরের কোনো এক গ্যালাক্সির গ্রহে। পৃথিবী আজ প্রায় ধ্বংসের মুখে। শক্তিশালী ভাইরাস Deltra83 হয়তো মানুষের মস্তিষ্ককে এতক্ষনে নিয়ন্ত্রনে এনে ফেলেছে । আমাদের টিমের সবাই ইতোমধ্যে তাদের শিকার শুধু আমি আর জেসন ছাড়া।
এদিকে, ডেবিডও আমাদের সাথে কন্টাক্ট করছে না যাতে আমরা আমাদের বায়ো ইলেক্ট্রিক ফিল্ডকে পুনরায় এনার্জাইস করতে পারি। আমাদের হাতে এখন, এক কীট এন্টিডোট ছাড়া আর কিছু নেই যে আমরা পৃথিবীকে বাচাতে পারবো। এদিকে, রাস্তা শেষ হয়ে আসছে। আলোর কিছু ঝলকানি দেখতে পাচ্ছি। হয়তো সামনেই REDx এর টিম লিডার হায়াতো দাড়িয়ে আছে। অন্ধকার পেড়িয়ে একটা রুমে প্রবেশ করলাম। হঠাৎ করেই সারা রুম আলোকিত হয়ে গেলো। এদিকে, জেসন ভয়ে প্রচুর ঘামছে। ঘামবারই কথা , কারন আমরা এখন দাড়িয়ে আছি মৃত্যর মুখে। যেমন, বাঘের গুহায় বাঘকে মারতে এসেছি। হায়াতো কাছে এসেই বললো," এন্টিডোট কোথায়?"
আমি বললাম," আগে আমার বন্ধুদের নিয়ে আসো। তারপর!"
হায়াতো তার গার্ডকে ইশারা করল বন্ধুদের ধরে আনতে।কিছুক্ষন পরই এলেক্স, লোটফাস,কেলবিন কে আনা হলো। আমি বললাম, আগে এদের ঠিক করো তারপর এন্টিডোটের মূল ফাইল এবং এন্টিডোট দিবো।"
জানিনা, হায়াতো আমার সব কথা তেই রাজি । কোনো এক অজানা আশংকা বিরাজ করছে আমার এবং জেসনের মনে। জেসনকে বললাম, এন্টিডোটটা হায়াতোর হাতে দাও আর এদের নিয়ে চলো। কেলভিন আর এলেক্সে নিয়ে যখন বের হতে যাবো ঠিক তখনই হায়াতো উচ্চস্বরে হেসে উঠল । বুজতে পারলাম, আমাদের হাতে আর সময় নেই।
একটু পর দেখলাম, রুমের দরজা অফ হয়ে গেলো এবং গার্ডগুলো আমাদের চতুরদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে। মৃত্যুর কাউনডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। আমার কাছে মনে পড়তে লাগল; সেই 1 বছর আগের স্মৃতি। কেন পৃথিবী এমন হলো? মাত্র এক বছরের ব্যাবধানে?
জানতে হলে চলে যেতে হবে, 1 বছর আগে ।
নভেম্বরের 10 তারিখ। আমি আর আমার বন্ধু প্রিস্টন ছাদে বসে ফেসবুকে নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে চা খাচ্ছিলাম আর গল্প করছিলাম আমার সামনের বছরের স্ট্যাডির ব্যাপারে। হঠাৎ একটা পোষ্ট সামনে ভেসে উঠলো। নিউজটা ঠিক এমন ছিলো,
আমাদের সকলকে আপনারা রক্ষা করূন। আমরা বাটার ফ্লাই গ্লাক্সি থেকে বলছি। এখানে খুবই অন্যায় হচ্ছে আমাদের উপর। আরা এখানে গবেষনার কাজে এসেছিলাম কিন্তু, আমাদের টিম লিডার আমাদের সাথে বেইমানি করল। এই গ্যালাক্সির কিছূ বিশেষ বৈশিষ্ট আছে। এখানে আপনি আপনার নিজেকে টেলিপোর্টেশন করতে পারবেন। আপনার দেহে থাকা বায়ো ইলেক্রেকফিল্ডকে নিয়ন্ত্রন করে বাতাসের মাধ্যমে এক জায়গা থেকে আরেচ জায়গায় সহজেই যেতে পারবেন যা আমদের পৃথিবী বাসির জন্য খুব বিপদজনক। এতে, বিশ্ব ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। কিন্তু, দুঃখের সহিত বলতে হচ্ছে, আমাদের টিম লিডার হায়াতো তার মাথায় একটা বাজে চিন্তা এসেছে। সে চায় সে নিজে এই গ্যালাক্সিতে রাজত্ব করবে এবং টেলিপোর্টেশন ব্যাবহার করে পৃথিবীর যাবতীয় উপাদান এখানে আনবে। সে সূর্যকে এখানে আনবে যাতে গ্যালাক্সির সকল গ্রহে আলো পৌছাতে পারে। কেননা, এখানে সূর্যের মতো বড় নক্ষত্র নেই। আর, আপনারা জানেন যদি সূর্যকে এখানে আনা হয় তাহলে পৃথিবী হয়তো নিশ্চিন্হ হয়ে যাবে। আবার, সে এই সিধান্তও নিয়েছে যারা তাকে মানবে , তার গোলামি করবে শুধু তাদের সে এখানে আনবে। হায়াতো আমাদেরকে বন্দি বানিয়ে টেলিপোর্টেশন মেশিন বানাতে ব্যাস্ত যা পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রন করতে উপযোগী। আজ বুঝলাম, সৃষ্টিকর্তা কেনো আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে পাঠিয়েছেন।
কিন্তূ,আর বেশি দেরী নেই। খুব শিঘ্রই হায়াতো পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রনের কাজে লেগে পড়বে। আপনারা আমাদের সাহায্য করূন"
নিউজটা পড়া শেষ করতেই হাত থেকে গ্লাসটা পরে গেলো।
প্রিস্টন বলল," কী হয়েছে? "
আমি বললাম," এটা পড়"
বেশকিছুক্ষন ধরে প্রিস্টন পড়ার পর বলল, আরে এটা ভুয়া। আদৌও সম্ভব নাকি?"
আমি প্রিস্টনের কথা কান না দিয়ে নাসার অফিসিয়াল সাইটে ডুকলাম। ডোকার পর আমার মাথা আরও খারাপ হয়ে গেলো। হ্যা, আসলেই এটা সত্য । প্রিস্টনকে দেখালাম। প্রিস্টনও খুব চিন্তায় পরে গেলো। তার মানে এটা বাস্তব যে টেলিপোর্টেশন রয়েছে। খানিকবাদে মাথায় এলো, টাইম মেশিন যদি আবিষ্কার করতে পারি আমরা তাহলে এটা এমন কী?

0 Comments