গল্প: ডার্কেসী
ক্যাটাগরী: সাইন্স ফিকশন
লেখক: আশিকুর রহমান
পর্ব:৩
" স্যার ।শান্ত হোন! আমরা তো কিছু একটা উপায় নিশ্চই বাহির করবো।"
এদিকে, প্রিস্টনকে বললাম," আমাদের টিমে যারা আছে তাদের সবাইকে আজ সন্ধায় স্যারের ল্যাবে আসতে বলো! আজ খুব গুরুত্বপূর্ন একটা মিটিং হবে"।
সন্ধা ৭ টার দিকে ল্যাবে , কেলবিন , লোটফাস, ডেবিড, ব্রডি সবাই আসল। স্যার বলল,
" তোমরা সবাই ইতোমধ্যে নিউজটা শুনেছো তাই না? তাহলে! তোমাদের মধ্যে কে কে রাজি আছো যে নিজের জীবন উৎসর্গ করে পৃথিবীকে বাচাঁবো? দেখো! আমি তোমাদেল কাউকেই জোর করছি না কিন্তু? এটা তোমাদের প্রতি আমার অনুরোধ ও দায়িত্ব।"
স্যারের কথা শোনার পর সবাই নিচু হয়ে তাকিয়ে রইলো।চারদিকে শুনশান নিরবতা।
কিন্ত, পরক্ষনে সবাই সবার দিকে তাকাতাকি করে স্যারকে বলল , আমরা সবাই রাজি।
স্যার বলল," আমি আশিককে টিম লিডার দিয়েছি। তোমরা কক মনে করো? "
সবাই বলল, জ্বী স্যার। ও আমাদে র টিম লিডারের জন্য পারফেক্ট। তখন স্যার আমাকে এন্টিগ্রাভিটির কিছু ক্রিস্টালের টুকরো দিলেন। আর, একটা অদ্ভুত মেশিন দিলেন। যা দিয়ে আমি আগুন/ পানির ভিতর দিয়ে যেতে পারবো। স্যারকে বললাম,
" স্যার? এটা কী?:
" এটা হলো আমার তৈরি বায়ো ইলেকট্রিক ফিল্ড সুটের গেজিট। এটাকে মর্ফারও বলতে পারো। আমি এটাকে তোমার ডি এন এর সাথে ম্যাচ করে বানিয়েছি। এতে, তুমি মহাকাশে! হারিয়ে যাবে না কিংবা ব্লাক হোলের কাছেও যাবে না। "
" স্যার? বাকিদের জন্য বানাবেন না?"
" হ্যা বানাবো। তবে, তুমি আমার সবচেয়ে প্রিয় তাই তোমারটা আগে বানিয়েছি। যাইহোক
তোমারা সবাই প্রস্তুতি গ্রহন কর।"
এভাবে দিন যায় দিন আসে। হঠাৎ একদিন, বিবিসি নিউজে খবর এলো! টেক্সাস শহরের কিছু এলাকায় মানুষ অদ্ভুত কিছু আচরন করছে যা যে কারো স্বাভাবিক অবস্থার বাহিরে! আমাদের বুঝতে বাকি রইলো না! এটা আসলে কী হতে পারে। হ্যা! এটা হায়াতোর চাল। কিছুক্ষন পর ডক্টর লি কল দিলো। তিনি জানতে চাইলেন, আমি কোথায় আছি। আমি বললাম, "স্যার। আমি তো এখন নিজ বাসাতে।"
তিনি হাঁপাতে হাঁপাতে বলতে লাগলেন, " তুমি জলদি তোমার টিম মেম্বারদের নিয়ে আমার ল্যাবে এসো। আর হ্যা! একথা যেনো কেউ জানতে না পারে। FBI কিন্তু আমাদের কড়া নজড়ে রাখছে।"
আমি কোনোমতে ফোনটা কেটে রওনা হলাম প্রিস্টনের বাসার দিকে। তার বাসা আমার বাসা থেকে 30 মিনিটের রাস্তা আবার এদিক ট্রাফিখ জ্যাম।প্রিষ্টনকে ফোন করে বললাম, " তুমি এখন জলদি ডক্টর লি এর ল্যাবে যাও আর হ্যা কেউ যেনো জানতে না পারে।
প্রায় 2 ঘন্টা পর আমরা সবাই ল্যাবে উপস্থিত হলাম। কিছুক্ষন পর স্যার গম্ভীর মুখে আমাদের সামনে উপস্থিত হলেন। এবং, একটা ভিডিও প্লে করলেন। ভিডিওতে সেই হায়াতোকে আবার দেখা যাচ্ছে। সে বলছে, " হ্যালো! ডক্টর লি। কেমন আছেন? আশা করি ভালো তবে বেশি দিন ভালো থাকবেন না। বলেছিলাম না? রোবট বানাচ্ছি! ইতোমধ্যে আমার কিছু মাইক্রো ইউনিট রোবট পৃথিবীতে পাঠিয়েছি যাতে রয়েছে খুবই শক্তিশালী ভাইরাস Deltra 83. মনে পড়ে নামটির কথা? হা হা হা । খুব শিঘ্রই আপনিও আমার সাথে যুক্ত হবেন। কেমনবোধ করছেন?"
ভিডিওটা দেখে সবাই চুপ করে রইলো। হঠাৎ, ব্রডি প্রশ্ন করল" আচ্ছা? এই ভাইরাসটির কাজ কী ডক্টর লি!"
ডক্টর লি বেশ কিছুক্ষন মাথা নিচূ করে রাখলেন এবং পরক্ষনে বলতে লাগলেন, আসলে এটা আমার তৈরি ভাইরাস। আমি এটা হায়াতোকে গবেষনার কাজে দিয়েছিলাম। তারা যেখানে গিয়েছে সেখানে ভয়ানক কিছূ প্রানি থাকতেও পারে যা আমি বইতে পড়েছিলাম। আর, সেই জন্যেই আমি তাকে এটা দিয়েছিলাম। এই ভাইরাস কারো শরীরে ট্রান্সফার করলে মুহুর্তের মধ্যে তার মাইন্ড কন্ট্রোলে চলে যায় যার কাছে এটার রিমট রয়েছে। আসলে, এটা প্রোটন আর ইলকট্রনের তৈরি ভাইরাস। যা মানুষের শরীরে থাকা প্রোটনকে ইলেকট্রন দ্বারা আঘাত করে তার কিছূ নার্ভ/টিস্যু আকেজো করে দেয়। এতে, সে তার মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলে। যাকে নিয়ন্ত্রন করে ব্যাক্তির কাছে থাকা রিমট দিয়ে।"
পরের পর্ব: 21/04/20 তারিখ রাত 9 টায় পাবলিশ হবে

0 Comments