বুক পকেটের গল্প(১)

বুকপকেটের গল্প - ০০১
>[মায়া এবং ভিটা]>
শব্দ >২৫০

লেখক: আরকান ফয়সাল
..................আসমান ভর্তি তারা।দারুণ মিষ্টি বাতাস বইছে।গভীর রাতে নদীর মাঝখানে নৌকা।নৌকার তল থেকে জলের কলকল শব্দ সৃষ্টি হচ্ছে।
ইয়াসমিন একটা রবীন্দ্র সংগীত ধরেছে।আশরাফের কোলে মাথা রেখে চুপ করে আছে তাদের চার বছরের মেয়ে রাত্রি।বাবা-মেয়ে একসাথে গান শুনছে।ইয়াসমিনের গানের সুর,মিষ্টি বাতাস আর জলের কলকল শব্দ যেন আশরাফকে অন্য জগতে নিয়ে যাচ্ছে।
তবে মাঝি বাহার অন্য কিছুর অপেক্ষায়।তার চোখ অন্য কিছু খুঁজছে।একটা ট্রলার।তাকে বেশ কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে।বলা হয়েছে ট্রলারের সাথে যেন নৌকাটার ধাক্কা দেওয়া হয়।তাহলে আশরাফ ইয়াসমিন আর রাত্রি নদীর জলে ডুবে যাবে।এর জন্য টাকা দিয়েছে আশরাফের ব্যবসায়িক এক বন্ধু।
বাহারের ও টাকার প্রয়োজন।বহু টাকার।তার বাবার ভিটা বন্ধক রাখা।যে করেই হোক এ ভিটা তার উদ্ধার করতেই হবে।তা না হলে যে সে তার মৃত বাবার অভিশাপ থেকে বাঁচবে না।
হঠাত একটা ট্রলার দেখলো সে।ভটভট করতে করতে ট্রলারটা আসছে।নৌকাটার মুখ ট্রলারটার দিকে ঘোরালো বাহার।
ইয়াসমিন গাওয়া থামালো না।
নৌকা থামালো না বাহারও।চলে এসেছে ট্রলারটার কাছে।শেষ বারের মত সুখী দম্পতিটাকে দেখলো বাহার।আরেকবার কল্পনায় আনলো বাপের ভিটা।তারপর ট্রলারের দিকে এগিয়ে দিলো নৌকার গলুই টা।

চিৎকার করে উঠলো অন্যরা।আশরাফ দুহাত দিয়ে ইয়াসমিন আর রাত্রিকে জড়িয়ে ধরলো।
যেন এক মহাকাল কেটে গেল।
বাহার শক্ত হাতে বৈঠা ধরে বললো আপনাগো কিছু হয় নাই তো?মায়েডার কিছু হয় নাই তো?

ইয়াসমিন আর রাত্রি আশরাফের বুকে লুকিয়ে আছে।আর আশরাফ কাপঁছে।

বাহার পারলো না নৌকাটা ডুবিয়ে দিতে।শেষকালে এসেও সে গলুইয়ের মুখ ঘুড়িয়ে ফেলেছে।এক আশ্চর্য মায়ায়।

পারলো না সে তার বাবার বন্ধকি ভিটা উদ্ধার করতে

Post a Comment

0 Comments