হাতি ও মশার ভালোবাসা

গল্প:   হাতি ও মশার ভালোবাসা
[এখানে কোনো প্রানী কিংবা পাখিকে হিন্য করা হয়নি। এটি একটি প্রতীকি গল্প। বাস্তব ঘটনার সাথে মিল থাকলে লেখক দায়ী  নয়। ধন্যবাদ]
লেখক:আশিকুর রহমান
সহযোগীতায়: অনিক ও সাজিদ

[]কোনো এক সময়ে পৃথিবীর পাশের গ্রহ উগান্ডার এক গভীর অরন্যে বসবাস করত এক বিশাল দেহী মেয়ে হাতি আর এক ক্ষুদ্র মশা। হাতিটির দেহ যেমন ছিলো বিশাল তেমনি তার বিপরীতে ছিলো ক্ষুদ্র মশাটি। একদিন এক ভয়ানচ দাবানলের কারনে উগান্ডার যে অংশে হাতি থাকতো সেই অংশটি পুড়ে যায় । ফলে, হাতির খাদ্যাভাব দেখা দেয়। তাই হাতিটি জঙ্গলের উত্তর প্রান্ত থেকে দক্ষিন প্রান্তে যাওয়ার সিধান্ত নেয়। তো সময়  করে সে কোনো এক  পূর্নিমার রাতে   রওনা দিলো।
[]অপরদিকে, মশাটি থ্যালাসামলা  থুক্কু থ্যালাসেমিয়া অর্থ্যাৎ রক্তশূন্যতায় ভুগছিলো। রক্তশূন্যতায় ভোগার ফলে মশাটি ডিপ্রেশনে চলে যায়। শেষমেষ সে সিধান্ত নিলো রক্তের সন্ধানে জঙ্গলের উত্তর প্রান্তে যাওয়ার। মশাটি ছিলো অশিক্ষিত তাই সে ভয়ানক দাবানলকে রক্তের মহাসাগর ভাবল।
যেতে যেতে পথে পূর্নীমার রাতের কোনো এক মহালগ্নে তাদের দু-জনের  ধাক্কা লাগে। মশাটি  দেখতে পেল তার সামনে এক বিশালদেহি হাতি দাড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু, আফসোস মশাটির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চোখে হাতির বিশাল দেহ আটছিলো না। অপরদিকে, হাতির বিশাল চোখ ক্ষুদ্র মশাটিকে ফ্রেম বন্দী করতে পারছিলো না। ঠিক সেই মুহুর্তে মশাটি বলে উঠল," ওগো, তোমার আকাশ দুটি চোখে আমি ক্ষুদ্র এক মশা"। এবার হাতিও তাকে দেখে বললো," বলছি আমার পেট্টা ছুয়ে আমি বড় শান্ত মেয়ে। খাচ্ছি আমি সুযোগপেয়ে শুনে বুঝি বিষম খেলে?"
 এভাবে তাদের দু-জনের ভাঙা গলার গান চলতে লাগল। শেষমেষ, তারা দু-জনে তাদের প্রেমে পড়ে গেলো
অতপর, তাদের বন্ধুত্ব শুরু হলো। দিনের পর দিন তাদের বন্ধুত্ব আরও গাঢ় হতে লাগল। কিন্তু, হঠাৎ একদিন তাদের Chemistry লাইফে Physics হয়ে দাড়াল হাতির মা।
 একদিন সেই ক্ষুদ্র মশা হাতির মায়ের কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যায়। কিন্তু, হাতির মা ক্ষুদ্র মশাকে রিজেক্ট করে দেয়। সে কোনো ভাবে বুঝে উঠতে পারলো না মশাটি হাতিকে নাকি হাতির মাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলো। কিন্তু, মশা কোনোভাবেই হাল ছাড়তে প্রস্তুত নয়।  একদিন মশা ও হাতি ঠিক করল পালিয়ে যাবে। তো তারা, ফাগুন মাসের কোনো এক পূর্নীমার রাতে পালিয়ে পাশের দেশ নোয়াখালীতে আসল। তাদের উভয়ের কাছে টাকা পয়সা ছিলো না। ছিলো না কোনো খাবার।
যেখানে মশা একবার খেলে তিনদিন খাওয়া লাগে না  সেখানে মশা হাতির জন্য খাবার জোগার করতেই জীবন ছুটে যায়। এতদিন যে হাতির মনের  সাগরে মশা সাতার কাটছিলো আজ তা হারে হারে টের পাচ্ছে । এদিকে হাতিও তিনবেলা খেতে না পেয়ে অসুস্হ হয়ে যাচ্ছে। মশাও এখন আগের মতো কাজ করতে পারে না। শেষমেষ, দু জনেই কোনো এক ফেব্রুয়ারি মাসের 31 তারিখ কচু গাছ খেয়ে পৃথিবীকে বিদায় জানিয়ে গেলো গেলো।
Moral: নিজের অবস্থান বুঝে কাজ করুন। আবেগে আপ্লুত হয়ে কোনো কাজ করবেন না। ( গল্পটিকে আপনি নেগেটিভ ভাবে নাকি পজিটিভ ভাবে নিবেন সেটা আপনার ব্যাক্তিগত ব্যাপার। ধন্যবাদ)


নতুন নতুন গল্প পেতে আমাদের সাথেই থাকুন

Post a Comment

0 Comments