The Lost City Of Atlantis(Part:4)

#Lost_City_Of_Atlantis
লেখক:শাহরিয়ার হাছান
পর্ব-৪

_ “মহাজাগতিক প্রাণীদের আকৃতি কিংবা গঠন ধারণা করা খুবই কষ্টকর। কারণ যে সকল প্রাণীর ভৌতিক অস্তিত্ব আমরা দেখেছি, সেই সকল প্রাণী নিয়েই আমরা চিন্তা করতে পারি। অথবা সেই সকল প্রাণীর দেহের কিছু অংশ পরিবর্তন করে আমরা চিন্তা করতে পারি। মগজে ভিন্ন ধর্মী অতিপ্রাকৃতিক প্রাণী বানাতে পারি। এই ব্যতিক্রম ধর্মী অতিপ্রাকৃতিক প্রাণী চিত্রকাররা অতি সহজে রং তুলি দিয়ে উপস্থাপন করতে পারেন। কিন্তু যে সকল প্রাণীর ভৌতিক অস্তিত্বই নেই, সে সকল প্রাণীর চিত্র নিজের মগজে ফুটিয়ে তোলা অসম্ভবের কাতারে পড়ে। চিত্রকাররা এই ক্ষেত্রে ব্যর্থ। সুতরাং আমাদের মতো সাধারণ মানুষেরাই বা কী করে পারবে? আজ যে প্রাণী ছবিটি কাগজের ভেতর থেকে পেয়েছি সেটার বর্ণনা দেওয়ার মতো কোন শব্দ আমি খুঁজে পাচ্ছি না। কারণ শব্দকোষে উপস্থিত শব্দগুলো শুধু মাত্র আমাদের চোখে ধরা পড়া ভৌতিক অস্তিত্ব সম্পন্ন বস্তু কিংবা প্রাণীদের বর্ণনা করার জন্যে। যা পূর্বে কেউ দেখেনি তা বর্ণনা করা অসম্ভব। তবে আমি প্রাণীটি দেখেছি, কিছুটা হলেও বর্ণনা করতে পারব। ছবিতে দেখা প্রাণীটি জীবিত হাতের মতো, তবে হাতটা জিহ্বার মতো দেখতে। প্রাণীটার শরীর কালো, কাটা যুক্ত, মুখটা খুব বিচ্ছিরি। তবে পুরো দেহের বর্ণনা দিতে আমি ব্যর্থ, বাকি দেহের বর্ণনা জন্য শব্দ খুঁজে পাচ্ছি না। মোট কথা প্রাণীটা সরাসরি কেউ দেখলে নির্ঘাত বমি করবে, সে সাথে প্রচণ্ড ভয়ও পাবে।’’ মনে মনে নিজেকে নিজেই বলল ফারহান। রুমে থাকা লাশগুলো সে বাড়ির পাশে থাকা ছোট্ট বাগানে দাফন করে দিয়েছে। জানলার পাশে এসে সে দাঁড়াল। এক দৃষ্টিতে সে বাগানের দিকে চেয়ে রইল।
মুখ ব্যঙ্গ করে সে বলে উঠল, ‘হাঁদারামগুলোর জন্যে আমার বাগানে থাকা সুন্দর সুন্দর ফুলগুলো বিসর্জন দিতে হয়েছে। এত মাস ভরে চর্চার পর ফুলগুলো ফোঁটা শুরু করে কিন্তু আজ হাঁদারামগুলো দাফন করতে মাটি খুঁড়তে হয়েছে। সব ফুল আমার কোদালের আঘাতে নষ্ট হয়ে গেছে। নিজের হাতে নিজের পরিশ্রম মাটি করা খুবই কষ্টকর। হৃদয়ে ব্যথা হয়!’
জানালার পাশ থেকে সে সরে এলো। বিছানায় এসে সে নিজের গা এলিয়ে দিল। সারারাত ঘুমায়নি সে, তাই সে এখন একটা লম্বা ঘুম দেবে। যেই ভাবা সেই কাজ। ঘুমিয়ে পরল সে।
.
.
 ফারহানের ফোনটা বেজে উঠল। ফোনের শব্দে তার ঘুম ভেঙে গেল। ঘুম জোড়ানো কণ্ঠে সে একটা অকথ্য গালি দিল, ‘সা…!’ এরপর সে ফোনটা রিসিভ করল। ওপাশ থেকে একটা চেনা কণ্ঠ বলে উঠল, ‘আপনাকে একটু থানায় আসতে হবে।’
_ “আচ্ছা!’
ওপাশে থাকা ব্যক্তিটা ফোন কেটে দিলো। দ্রুত ফারহান ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলো। জামা-কাপড় পাল্টিয়ে সে থানার উদ্দেশ্য বেরিয়ে পড়ল। সে বেশ ভালো করেই জানে কেন পুলিশ অফিসার তাকে থানায় ডেকেছে।
.
.
 পুলিশ অফিসারের সামনে বসে আছে ফারহান। পুলিশ অফিসার তার দিকে একটা কাগজ আর কলম এগিয়ে দিলেন। ফারহান কাগজে সাক্ষর করে থানা থেকে বেরিয়ে এলো। সেদিনের সেই লোকটার কেস উইড্রো করেছে সে। কারণ লোকটার কোনো পরিচয় এবং খুনীদের সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। মামলা করেছিল ফারহান, আজ তা উঠিয়ে নিয়েছে সে। খুনীদের তো সে হত্যা করেই ফেলেছে, এখন শুধু শুধু এই কেসের পিছনে পুলিশদের সময় নষ্ট করিয়ে কোনো লাভ নেই।
.
.
 বাড়ির সামনে এসে ফারহান মনে মনে ভাবল, ‘তাহলে কি আটলান্টিক মহাসাগরে যাবো আমি? লোকটার কাগজের কথার সত্যতা ছবি দুটো প্রমাণ করে দিয়েছে। কিন্তু আটলান্টিক মহাসাগর তো অনেক দূরে। আমার তো পাসপোর্ট নেই, তাছাড়া এত টাকা খরচ করে আটলান্টিক মহাসাগরে পাড়ি দেওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব। বিকল্প কোনো পথও চোখে পড়ছে না। ’
বাড়িতে ফিরে ফারহান গোসল সেরে নিলো। হালকা নাস্তা করে সে বিছানায় গা এলিয়ে দিলো। খোলা জানলা দিয়ে শীতল হাওয়া এসে তার টেবিলের উপর থাকা কাগজের টুকরোটা তার মুখের উপরে নিয়ে আসলো। ফারহান কাগজটা মেলে ধরল। কাগজের উলটো পিঠ! কাগজের উলটো পিঠে লিখা আছে বলে তার জানা ছিল না। লিখাটা সে পড়তে লাগল।
_ ‘আলো, অন্ধকার, বালু, মরুভূমি, ধূলিস্বাদ, চোখে, আড়ালে-অন্তরে জগত, মহাজগৎ নিয়ে যাবে তোমার গন্তব্যে।’
ফারহান কথাটার মানে বুঝল না। তবে এইটুকু সে বুঝতে পরেছে যে এই বাক্যটির অর্থ বুঝতে পারলেই সেই প্রাণীটির নিকট পৌঁছানো যাবে।
.
.
 চোখের মতো দেখতে জায়গাটার মাঝে এসে দাঁড়াল ইওন। বালুও নয় আবার পাথরও নয়,  কাঁদা মাটি শুকিয়ে থাকলে যেমন হয় এখানকার মাটিও ঠিক তেমনি। ইওন তার মাথা সোজা করে ওপরের দিকে তাকাল। এদিকে বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। আকাশের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ইওন। আচমকা একটা দৃশ্য দেখে সে থমকে দাঁড়াল। তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। বিস্ময়কর কিছু একটা আকাশে দেখেছে সে। অস্পষ্ট গলায় সে বলে উঠল, ‘অ..অসম্ভব! ’

ছয় মাস অতিবাহিত হলো।
ফারহান আর এই বিষয় নিয়ে মাথা ঘামায় নি। তার উদ্দেশ্য ছিল লোকটার খুনীদের শাস্তি দেওয়া এবং কাগজের বাকি অংশ নেওয়া। সেটা সে সফল ভাবে করতে সক্ষম হয়েছে।
.
.
 সমুদ্রের উথাল পাতাল ঢেউয়ের দিকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে রবার্ট। যেন তার দৃষ্টি নীলচে নোনা পানি ভেদ করে সমুদ্রের তলদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছে। রবার্টকে কিনারে দেখে চার্লস তার দিকে এগিয়ে গেলো। তার কাঁধে হাত রেখে চার্লস বলল, ‘কী হলো এখানে সমুদ্রের জলের দিকে তাকিয়ে আছ কেন?’
রবার্ট কিছু বলল না। এভাবেই কেটে গেল দশ মিনিট। শিপ সমুদ্রের মাঝে আশার পর থেকেই রবার্ট বার বার কিনারে যাচ্ছে। যা মোটেও নিরাপদ নয়, শুধু কিনারেই নয় রেলিং ধরে ঝুঁকে কয়েকবার সমুদ্রের জলের দিকেও তাকিয়েছে। কিছুক্ষণ পর রবার্ট মুখ ফুটে বলল, ‘ঝড় উঠতে চলেছে।’
রবার্টের কথা শেষ না হতেই হুট করে সমুদ্রে বিশাল এক।ঝড় উঠল। রবার্ট স্থির দৃষ্টিতে তাকাল চার্লসের দিকে। চার্লস রবার্টের হাত ধরে টেনে কেবিনের দিকে নিয়ে যেতে লাগল। পথিমধ্যে রবার্ট জ্ঞান হারালো। শিপের বাকিরা মিলে ধরাধরি করে রবার্টকে কেবিনের ভেতর নিয়ে গেল। চার্লসের মনে অজানা এক ভয় বাসা বেঁধেছে, ‘ক্যাপ্টেন জুলবার্গের সাথে যেমনটি ঘটেছিল আজ রবার্টের সাথেও ঠিক তেমনটি ঘটেছে। তাহলে কী রবার্টও ক্যাপ্টেনের মতো…..!’
রবার্টের জ্ঞান ফিরতেই দ্রুত চার্লস তার নিকট গেল। রবার্টের গা ঘেঁষে বসে চার্লস বলল, ‘কী হয়েছিল? হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেললে কী করে?’
_ “জানি না! হঠাৎ কীভাবে যে জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম। আচমকা মনে হলো মগজে যেন বরফ জমে গেছে।’
রবার্টের কথাটা শুনে চার্লসের বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে উঠল। চার্লস কিছু বলে উঠার
আগেই রবার্ট বলল, ‘আমি বিশ্রাম নিতে চাই। তোমরা সবাই তোমাদের কাজে ফিরে যাও। বন্দরে পৌঁছাতে আর চার পাঁচ ঘণ্টা লাগবে। ততক্ষণ আমি ঘুমাতে চাই।’
রবার্টের কথা মতো সবাই বাহিরে চলে যেতে লাগল। চার্লস যেতে চাচ্ছিল না, কিন্তু বাকিরা তাকে তাদের সঙ্গে বাহিরে নিয়ে আসলো। চার্লসের মনে থাকা ভয়টা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
.
.
 বন্দরে শিপ পৌঁছার পর রবার্ট চার্লসের সাথে দেখা না করে নিজের বাড়িতে ফিরে যায়। চার্লস রবার্টকে অনেক খুঁজে কিন্তু সে পায়নি। পরে সে জানতে পারে রবার্ট বাড়িতে ফিরে গেছে। চার্লস এক মুহূর্তও দেরি না করে রবার্টের বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ল।
.
.
_ “রবার্ট, দরজা খোল।’’ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে চার্লস দরজায় কড়া নেড়ে রবার্টকে ডাকছে। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ আসছে না। কয়েকবার ডাকার পর রবার্টের কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে চার্লস দরজা ভাঙার সিদ্ধান্ত নিলো। পাঁচ ছয় বার দরজায় আঘাত করার পর দরজা ভেঙে গেল। চার্লস দ্রুত রবার্টের রুমে গিয়ে দেখল রুম বিপরীত দিকে মুখ ফিরিয়ে বসে আছে। রবার্টকে অক্ষত অবস্থায় দেখে চার্লসের বুক থেকে ভয় নামক পাথরটা নেমে গেল। সে রবার্টের কাছে গেল, পাশে বসল।
_ “কী হলো দরজা খুলছি….’’
চার্লসের শিরদাঁড়া বেয়ে ঠাণ্ডা তরল কিছু তার পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ল। ভয়ে তার পুরো শরীর হিমশীতল ঠাণ্ডা হয়ে গেল। চার্লস রবার্টের কাঁধে হাত দিতে রবার্টের দেহটা ধপ করে মেঝেতে পড়ে যায়। রবার্টের কাঁধ বরফের মতো ঠাণ্ডা ছিল।
মিনিট দশেক হতভম্ব হয়ে বসে রইল চার্লস। তার মগজ কাজ করছে না। ভয় তার পুরো শরীর অসাড় করে দিয়েছে।
.
.
 রবার্টের দেহ কিছুক্ষণ হলো নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চার্লস মানসিকভাবে পুরো ভেঙে পরেছে। রবার্টের সাথে এই সমুদ্র যাত্রা যাওয়া প্রতিটি নাবিক স্তব্ধ। আকস্মিক রবার্টের মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছে না। তার উপর রবার্টের দেহ এতটা ঠাণ্ডা যেন ফ্রিজে ছিল কয়েক ঘণ্টা।
.
.
 রবার্টের শ্রাদ্ধের চৌদ্দদিন পার হলো। চার্লস সিদ্ধান্ত নিলো রবার্টের মৃত্যুর রহস্য সে খুঁজে বের করবেই।

চলবে...

Post a Comment

0 Comments